News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হাতে উঠে আসে মাংসগুলো : খোরশেদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম হাতে উঠে আসে মাংসগুলো : খোরশেদ

‘নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশের গোসলের জন্য একজন ইমাম আনা হয়। কাউন্সিলর নজরুলের বিকৃত দেহ দেখে ইমাম সাহেব গোসল করাতে ভয় পান। সিদ্ধান্ত হয় ইমাম সাহেব দেখিয়ে দিবেন আর আমি ও কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মুন্না গোসল করাবো। যথারীতি আমরা দুইজন হাতে গ্লাভস পড়ে নজরুলকে গোসল করাই। গোসলের সময় নজরুলের মাংস আমাদের হাতে উঠে আসে, সেই কি ভয়াবহ দৃশ্য। না দেখলে বুঝার উপায় নেই। গোসল শেষে জানাজার জন্য কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের মরদেহবাহী কফিন নিয়ে আমি ও সহকর্মী মুন্না নগর ভবনের গেটে রাখি জানাজার জন্য। প্রথম জানাজা শেষে লাশ নিয়ে রাখি খানপুরের ৩০০ শয্যা হাসপাতালের হিমাগারে।’

এভাবেই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলোচিত সাত খুনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ৭ জন অপহরণ ও ৪ দিনপর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনার পর সরেজমিনে লাশ দেখে ছিলেন তিনি। আর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ছিলেন প্যানেল মেয়র-২ সে সময়ও কাউন্সিলর ছিলেন মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

কাউন্সিলর খোরশেদ বলেন, এখনও সেই স্মৃতি মনে করলে শরীরে লোম শিউরে উঠে। খুব ভয়ানক ছিল সেদিন। আমরা চাই অবিলম্বে সাজাপ্রাপ্তদের দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের গত কয়েক বছরের ইতিহাসে সাত খুনের ঘটনাটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। সাতজনকে একসঙ্গে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল বন্দরের শান্তিনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে উঠে ছিল র‌্যাব কর্তৃক অপহৃত হওয়া সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ ৬ জনের লাশ। পরদিন ১ মে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

৩০ এপ্রিল বিকেলে যখন একের পর এক লাশ উদ্ধার হয় তখনই সবাই নিশ্চিত হয় অপহরণের ৭ জনের লাশই এগুলো। মুহূর্তের মধ্যে শীতলক্ষ্যার পাড়ে জড়ো হতে থাকে লোকজন। কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতে পরিবারের লোকজন। সেই বীভৎস দিনের কথা স্মরণ করে এখনো আতকে উঠে লোকজন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় ৬ জনকে।