News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

কক্ষনদী খাল এখন শুধুই ময়লার ভাগাড়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম কক্ষনদী খাল এখন শুধুই ময়লার ভাগাড়

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড় বন্দরের কুড়িপাড়া ঘাট দিয়ে শুরু হয়েছে পুরো ২৭নং ওয়ার্ড এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত কক্ষনদী খাল। যে খালটি এক সময় ছিল এসব এলাকার যাতায়াতের মূল পথ এটি। এই খাল দিয়ে বড় বড় ট্রলার চলাচল করতো। খালটি দুপাড়ে থাকা গ্রাম গুলোর শত শত নারী পুরুষের বিয়ের বরযাত্রী ট্রলারে করে এই খাল দিয়ে যাত্রা করে ছিলো। নববধূকে নিয়ে এই খাল দিয়েই বাড়িতে আনা হয়েছিলো।

এক সময় তরুণরা এই খালে জাল ফেলে মাছ ধরেছেন বছরের পর বছর, আজ যারা বয়সে বৃদ্ধ। এসব যেন এখন এই খালের আশে পাশে থাকা এলাকার মানুষ গুলোর জন্য শুধুই স্মৃতি।

সরেজমিনে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খালের দুইপাড়ে অবৈধ ভাবে দখল করে গড়ে তোলায় হয়েছে বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট, কেউ কেউ নিজেদের বসতবাড়ির কিছুটা অংশ এই খালের উপরই নির্মাণ করেছেন। গৃহস্থলির ময়লা আবর্জনা ফেলতে ফেলতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। খালের বিভিন্ন জায়গায় মাটি জমা হয়ে চর সৃষ্টি হয়েছে। কোথায় কোথায় জন্ম নিয়েছে জঙ্গল। এই খালে আশে পাশের মানুষ যে ভেষাল বানিয়ে মাছ শিকার করতো এমন একটি ভেষাল ভঙচুর অবস্থায় খালের বুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

খালের উপর রয়েছে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য দুইটি পাঁকা ব্রিজ এবং একাধিক সাকুর তৈরি পুল। এর মধ্যে একটি পাঁকা ব্রিজ প্রাচীন নির্দশন বহন করে। যেমন স্থাপনা নারায়ণগঞ্জের পানাম সিটিতে দেখতে পাওয়া যায়।

এই খালটির পাশে নির্মিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সব থেকে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩৬০ মেগাওয়াটের সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট হরিপুর পাওয়ার লিমিটেড। খালটি সব থেকে নাজুক অবস্থা হয়েছে এই পাওয়ার প্লান্টের সামনে এসেই। এখানে খুব বেশি ময়লা আবর্জনা না থাকলে বালিতে ভরাট হয়ে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে খালে পানি প্রবেশের মুখ। এখানে অনেকটা পায়ে হেঁটেই খাল পাড় হওয়া যায়।

ফুলহর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ জানান, এই খাল দিয়ে এক সময় বড় বড় ট্রলার চলতো। এখন খালের চারপাশ থেকে শুধু দুর্গন্ধ আসে। সিটি কর্পোরেশন থেকে ময়লা না নেওয়ায় এলাকার সকল ময়লা এই খালেই ফেলা হয়। ফলে খাল ভরাট হয়ে গেছে। পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। অনেকে আশে পাশে জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করেছে। বর্তমানে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে খালটি উদ্ধার করা প্রয়োজন, খালটি খনন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফুলহর এলাকা খালের উপর বিজ্রটিও ঝুঁকিপূর্ন ব্রিজটি নতুন করে করা প্রয়োজন। সিটি কর্পোরেশন থেকে বহুবার খালটি খনন করার জন্য আসলেও সেটা এখনো করা হয়নি। সাবেক মেয়র আইভী এসে দেখে গেছে কিন্তু কাজ করেনি। কাউন্সিলর সিরাজ শুধু বলেছে বাজেট হয়েছে বাজেট হয়েছে কিন্তু কাজ করতে দেখা যায়নি।

মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন জানান, আমরা ছোট বেলায় দেখছি তখন এখানে চলাচলের পাকা রাস্তা ছিলনা। এই ঘাল দিয়ে যাতায়াত করা হতো। ছাউনি নৌকা দিয়ে অনেকের বরযাত্রা যেতে দেখেছি। আদমজী জুট মিলের বড় কর্মকর্তারা এই খাল দিয়ে যাতায়াত করতো। জনগণের স্বার্থে এই খালটি খনন করা হয়েছিলো। বিশাল বিশাল ট্রলার স্টিমার চলতো এই খাল দিয়ে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই খাল দিয়ে যাতায়াত করতো। এ খাল দিয়ে, কাইকারটেক হাট, তারাবো হাট, গোলাকান্দাইল হাটে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য দিয়ে যেতো। এখন সবই স্মৃতি। আমরা চাই সিটি কর্পোরেশন থেকে যেন এই খালটি পুনরায় খনন করে খালের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হয়।

কক্ষ নদী খালের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলাপকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে যে খাল খননের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আমরা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় খাল গুলো খনন এবং সংস্কার কাজ শুরু করেছি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ৩২ খাল রয়েছে। আমরা সেই ৩২টি খালেরই খনন এবং সংস্কার কাজ করবো। পাশাপাশি এসব খাল গুলোতে যে সকল অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সে সকল অবৈধ স্থাপনা গুলো ভেঙে দিয়ে খাল খালের সংস্কারের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন রূপ দেওয়া হবে।