আগামী মে মাসে প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। পবিত্র ঈদের পর ভোট গ্রহণে নির্বাচনে প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন দিক নির্দেশনা দেয়া হবে।
এবারের নির্বাচনে দলের তৃনমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মাঠ গোছানো প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। গেলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিএনপি শীর্ষ নেতারা।
বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনেই বিএনপি জোয়ারে ভাটা পড়তে দেখা গেছে। সেগুলো থেকে আবারো তৃনমূল আরো সজাগ ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিএনপি এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। জেলা মহানগর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সমন্বয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি জয়জয়কার চান কেন্দ্র।
এদিকে ১৯ বছরের সময় ধরে বিএনপি ক্ষমতায় না আসায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কিছুটা হিমশিম খেতে পারে। দীর্ঘ বছর যাবৎ স্থানীয় মানুষের কাছে ভোট চাইবে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। যার কারণে জনগণের ভোট পাবার প্রত্যাশা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পাচঁটি উপজেলায় মোট ৩৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। এই জেলাটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত এবং এতে ৫টি উপজেলা (নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, এবং আড়াইহাজার) রয়েছে। আড়াইহাজার ১০টি, রূপগঞ্জে ৭টি ইউনিয়ন, বন্দরে ৫টি ইউনিয়ন, সোনারগাঁয়ে ১০টি ইউনিয়ন ও নারায়ণগঞ্জ সদর ৭টি ইউনিয়ন। ৩৯টি ইউনিয়নের ১৭ বছর যাবৎ চেয়ারম্যান ও মেম্বার বেশিভাগ নির্বাচিত ছিলো ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগের।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব জানান, সরকার গঠনের পর গত দুই মাসে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের যে অর্জনগুলো রয়েছে, তাতে জনমনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই আমাদের নেতাকর্মীরা অধিকাংশ স্থানে বিজয়ী হবে।
তিনি বলেন, অনেকেই মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কে কোন পদে নির্বাচন করবেন, সেটি জানান দিচ্ছেন। আমাদেরও অনেকেই বলে রাখছেন যে, তারা এলাকায় নির্বাচনি কর্মকান্ড চালাবেন। তবে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটি সম্ভাব্য প্রার্থীরা মেনে নেবেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক ফতেহ মো. রেজা রিপন জানান, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি আছে। যে যার মতো করে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছেন। তবে দল থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩৯ ইউনিয়ন পরিষদের ২২ জন ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে। কয়েকজন মারা গেছেন বাকিরা অন্যরা বিএনপি নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জনরোষ এড়াতে এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তারা সকলেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে আসামি হয়েছেন। সদর উপজেলায় সাত ইউনিয়নের তিনজন চেয়ারম্যানই আত্মগোপনে রয়েছেন, একজন ইতোমধ্যে মারা গেছে।
আড়াইহাজার ১০ জন রূপগঞ্জে ৭ জন, সোনারগাঁয়ে ১০ জন ও বন্দর উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে পাচঁজন চেয়ারম্যান আত্মগোপনে রয়েছেন।




































আপনার মতামত লিখুন :