বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের সব সময় নিজেদেরকে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের পরবর্তী সময় গুলোতেও তিনি বিভিন্ন সময় বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদের এমন বার্তা দিয়ে থাকেন। কিন্তু দলীয় চেয়ারম্যানের এমন বার্তা দেওয়ার আগে থেকে দীর্ঘ বছর ধরে দলীয় পদ পদবীতে না থেকেও নিজেদেরকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত রেখে সবর্দা আলোচনায় থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির দুইজন আলোচিত নেতা ও জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
শওকত হাশেম শকু সব শেষ ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। আর মাকসুদুল আলম খন্দকার মহানগর যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এরপর দুইজনেই নিজেদের কমিটি বিলুপ্ত হলে আর কোনো গুরুত্বপূর্ন পদে পাননি। কিন্তু নিজেদেরকে সাধারণ জনগণের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন বিভিন্ন সেবা মূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে।
তারা দুইজন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত নিজেদের ওয়ার্ডে টানা ৪ বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে। নিজ এলাকায় তারা এতোটাই জনপ্রিয় যে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও স্থানীয় সাংসদদের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের তারা বিপুল ভোটে পরাজিত করে নাস্তানাবুদ করেছেন।
করোনাকালীন সময় তাদের ভূমিকা নারায়ণগঞ্জের গন্ডি পেরিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে। অপরদিকে মাকসুদুল আলম খন্দকার করোনা যোদ্ধা হিসেবে জায়গা করে নিয়ে ছিলেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুলোতেও।
দলের পদ হারিয়ে থেমে থাকেন নি এই দুই নেতা। দলে থাকা নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড নিয়ে জনগণের কাছে বিএনপি এবং তারেক রহমানের বার্তা পৌছে দিয়েছেন। ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা পৌছে দিয়েছেন।
তাদের সামাজিক কর্মকান্ড গুলোতেও তারা বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বার্তা পৌছে দিয়েছেন যা কিনা মাইকে বক্তব্য রাখা অন্যান্য নেতাদের থেকে বেশি সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা সহায়ক ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের জনপ্রিয়তার দিক থেকে এখনো বিএনপির অনেক পদধারী নেতারাও তাদেরকে পেছনে ফেলতে পারবেন না বলে মনে করছে নগরবাসী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মকান্ডে বিএনপির যতটা বদনাম হয়েছে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে বিএনপি সম্পর্কে যে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে সেটি সহসাই মুছে ফেলার মত নয়। সাধারণ মানুষের মাঝে বিএনপির জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে শওকত হাসেম শকু এবং মাকুসুদল আলম খন্দকার খোরশেদের মত নেতাদের সামনে নিয়ে এখনই সময়। তাদের মত নেতারা যখন বিএনপিকে রিপ্রেজেন্ট করে সাধারণ মানুষের কাছে যাবেন তখন বিএনপির প্রতিও মানুষের ধারণার পরিবর্তন ঘটবে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের উচিত শওকত হাসেম শকু এবং মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের মত নেতা যারা বর্তমানে অনেকেটাই আড়ালে চলে গেছেন তাদেরকে আবারো সামনে নিয়ে আসা।


































আপনার মতামত লিখুন :