News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

অপেক্ষা করো মন্ত্রী হয়ে আসছি!


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ১০:১২ পিএম অপেক্ষা করো মন্ত্রী হয়ে আসছি!

জোটের স্বার্থে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। অথচ নারায়ণগঞ্জের মধ্যে এ আসনটিকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হতো। ছেড়ে দেওয়ায় এ আসনটিকে আর ধরে রাখতে পারেনি। জমিয়তের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী শুধু পরাজিত হয়নি বরং এখানকার বিএনপিকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছেন। নেতায় নেতায় বিরোধের কারণে বিএনপির অবস্থা এখানে কাহিল দশায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনেও কাসেমীর কারণে বিএনপি দুর্বল হয়েছিল।  ৮ বছর পর আবারো তাঁর মনোনয়নে বিএনপি বিভক্ত হয়ে পড়ে। যার কারণে এবার এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আলআমিনের কাছে পরাজিত হতে হয়েছে। আর পরাজয়ের পর ফের নারায়ণগঞ্জ ছেড়েছেন। অভিযোগ আছে বেশ কয়েকজন নির্বাচনে কাসেমীর পক্ষে প্রচুর টাকা খরচ করেছেন। তাদের সেই টাকা দিতে টালবাহনা করছেন তিনি। টাকা চাওয়ার কারণে পাওনাদারদের নতুন গল্প শোনানো হচ্ছে। প্রচার করছেন তিনি আগামীতে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পাবেন। এ মিথ্যা আশ^াস দিয়ে কালক্ষেপন করছেন।

জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি ছেড়ে দেয় শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে। জোটের প্রার্থী হিসেবে সেখানে মাঠে নামেন জমিয়তের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী। তবে এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ সহজে মেনে নেয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলম।

১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে চমক দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। ভোট পড়েছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ ভোটার। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ১৭৭ টি ভোটকেন্দ্রে আল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি জোটের মুফতি মনির কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট। তবে আব্দুল্লাহ আল আমিনের ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করাটা তার জন্য সহজ ছিলো না। নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই ভোটের মাঠে লড়তে হয়েছে তাকে। তরুণ বয়সেই তার এই জয় নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস হয়ে থাকবে।

স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের প্রচারণায় কাসেমীর পাশে দেখা গেছে বহুল আলোচিত জোড়া খুন মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী শহীদকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহীদ কাশিপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইটবালু ব্যবসা, ড্রেজার কার্যক্রম ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকান্ড পরিচালনায় তার আলাদা ক্যাডার বাহিনী রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

মনির হোসাইন কাসেমীর পাশে দেখা গেছে গিরিধারার একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যুকে। বিতর্কিত ওই ব্যক্তির নাম শাহাদাত চৌধুরী ওরফে শাহাদাত পুলিশ। গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে তিনি কারাভোগও করেছেন।

কাসেমীকে ঘিরে রাখেন ফেরদাউসুর রহমান। তিনি শামীম ওসমানের অতি ঘনিষ্ঠ সেটা প্রকাশ্য। নিয়মিত শামীম ওসমানের সঙ্গে তিনি দেখা করতেন। শামীম ওসমানের অন্যতম ক্যাডার শাহ নিজামের নম পার্কের ডেরাতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে।

কাসেমীর পাশে দেখা গেছে শহরের চিহ্নিত অস্ত্রবাজ রাসেলকে। গত বছর শহরে প্রকাশ্য গুলি ছুড়েছিল এ সন্ত্রাসী। ফতুল্লার আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীদের ফেরানো হয়েছে। থানা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ প্রকৃতির নেতাকর্মীরা ফিরতে শুরু করেছে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী ছিলেন এক অভাবনীয় চরিত্র। সারা বছর নিরাপদে থাকা এই নেতা ঠিক নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এসে সক্রিয় হয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়। আবার নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই অবস্থার বেগতিক বুঝে চুপসে যান। ওই সময়ে কাসেমী বিএনপি নেতাকর্মীদের ফেলে চলে যান। প্রায় ৮ বছর পর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোন ধরনের যোগাযোগ করেনি। এবার সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সরব হয়ে উঠেন তিনি। জমিয়তের সঙ্গে বিএনপির জোটের কারণে তিনি ফের মনোনয়ন পান। এবারও বিএনপি নেতাকর্মীদের শঙ্কা কোন কারণে হেরে গিয়ে আগের মতই নারায়ণগঞ্জ ছাড়েন কাসেমী। যেকারণে দলের নেতাকর্মীরা তাকে বসন্তের কোকিল হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন। আর দলের মধ্যে থাকা এরুপ কাশেমী মার্কা বসন্তের কোকিলদের কারণে দলকে আরো কড়া মাশুল দিতে হয়েছে।