News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জামিন মিললেও কারাগারেই ঈদ আইভীর


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম জামিন মিললেও কারাগারেই ঈদ আইভীর

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। টানা কয়েকবার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে নগর রাজনীতিতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব এক শক্ত অবস্থান। গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে এক বছর বন্দি অবস্থায় থাকা আইভীর বিরুদ্ধে ১২টি মামলায় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জামিন বহাল রেখেছেন। ১৭ মে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এই আদেশ দিলে সহসায় মুক্তি পাচ্ছে না।

এবারও তাকে ঈদের আনন্দ কাটাতে হচ্ছে কারাগারের ভেতরেই। বর্তমানে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন সাবেক এই মেয়র। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকেই তার কারাবাস শুরু হয়।

প্রায় এক বছর ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। গত কোরবানির ঈদের পর এবারও ঈদের সময় তাকে থাকতে হচ্ছে কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে। ফলে এক সময়ের ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবন আর জনসমাগমে ঘেরা উৎসব এখন তার জন্য বন্দিত্বের নিঃসঙ্গ বাস্তবতা।

আইভীর গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল বেশ নাটকীয় ও আলোচিত। গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটি’ থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে রাতভর বাড়ির আশপাশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকরা বাড়ির সামনে ভিড় করেন এবং একপর্যায়ে আশপাশের সড়কেও অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়তি সতর্কতা ও তৎপরতা চালাতে হয়। দীর্ঘ আলোচনা ও টানটান পরিস্থিতির পর ভোরের দিকে আইভী নিজেই পুলিশের গাড়িতে ওঠেন।

এদিকে সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তার সম্ভাব্য মুক্তির খবর নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন ঘিরে আইভীকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবেই পরিচিত নন, বরং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণেও নগরবাসীর বড় একটি অংশের সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা সময়েও ২০০৩ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। পরে সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলেও আইভীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এখনো উল্লেখযোগ্য। নগর উন্নয়ন, তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে রেখেছে। ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য লড়াই কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তার সম্ভাব্য মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যেও নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, আইভী মাঠে ফিরলে সাংগঠনিক কার্যক্রমেও গতি ফিরে আসবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরেও বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ ও হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে বিএনপির ভেতরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে একাধিক নাম আলোচনায় রয়েছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে নাসিক প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে, তবে নগরবাসীর একাংশের অভিযোগ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে আগের মতো জবাবদিহিতা নেই। জলাবদ্ধতা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা না করলেও নাসিককে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। যদিও একাধিক মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি, তবুও এবার তার ঈদ কাটছে কারাগারের ভেতরেই। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায় স্পষ্ট, তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে ঘিরেই ইতোমধ্যে বদলাতে শুরু করেছে নাসিকের রাজনৈতিক সমীকরণ।