নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকার জন্য আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি সাব্বির ওরফে ‘চশমা সাব্বির’। তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অস্ত্র সহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সবমিলিয়ে এমন কোনো অপকর্ম নেই যার সাথে এই চশমা সাব্বির জড়িত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বারবার ধরা পড়লেও জামিনে বেরিয়ে আবারও অপকর্মের সাথে জড়িয়ে যায়।
সবশেষ ফতুল্লার মাসদাইরে ফের রক্ত ঝরাল কুখ্যাত ‘চশমা সাব্বির’ বাহিনী। ধারালো চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন আর এস কম্পোজিট গার্মেন্টসের গাড়িচালক জনি। হামলার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় আহত জনি বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার রাতে মাসদাইর এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ‘চশমা সাব্বির’-এর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী এ হামলা চালায়।
আহত জনি জানান, রাতে ঢাকা থেকে কোম্পানির এক কর্মকর্তাকে মাসদাইরে তাঁর বাসায় পৌঁছে দিয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, বড় ছুরি ও পিস্তল হাতে একদল সন্ত্রাসী গাড়িটি ঘিরে ফেলে। প্রথমে তারা গাড়িটি অন্য কারও বলে সন্দেহ করে ভেতরে তল্লাশি চালায়। পরে শুরু হয় চাঁদাবাজি।
প্রাণভয়ে জনি পকেট থেকে ৫০০ টাকা বের করে দিলেও সন্ত্রাসীরা তার কাছে থাকা বাকি টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তিনি পাশের বাসার গেটের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা মুখ লক্ষ্য করে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। এতে তার চোখ ও নাকের নিচে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসদাইরের হাজীর মাঠ, হুমায়ুন রোড ও গুদারাঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের নিয়ন্ত্রণ করছে ‘চশমা সাব্বির’ বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনকভাবে বারবার জামিনে বেরিয়ে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে সাব্বির। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায়ও তার বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর রোববার রাতে র্যাব, পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সাব্বিরের স্ত্রী ও সন্তানকে থানায় নেওয়া হলেও মূল হোতা ‘চশমা সাব্বির’ এখনও পলাতক রয়েছে।
এদিকে, আহত জনি বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখনও মূল আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো মাসদাইর এলাকায়। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কত রক্ত ঝরলে থামবে ‘চশমা সাব্বির’ বাহিনীর সন্ত্রাস?
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, সন্ত্রাসী কর্মকা-ের খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযুক্ত সাব্বির ও তার সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও তার বাসা থেকে ইয়াবা ও হেরোইন সহ স্ত্রী অন্তরা খাতুনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।



























-20260522173818.jpg)






আপনার মতামত লিখুন :