News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিএনপি ব্যস্ত সংঘাতে, ফিরতে মরিয়া আওয়ামী লীগ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম বিএনপি ব্যস্ত সংঘাতে, ফিরতে মরিয়া আওয়ামী লীগ

নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতারা যখন বিভিন্ন হাট, ঘাটের দখল নিতে ব্যস্ত, আর এসব করতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের দলীয় কর্মীদের রক্ত জড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময় রাজনৈতিক ময়দান ফিরে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ।

সবশেষ নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াতে প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিল করেছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। যারা সকলেই ছিলেন সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের সমর্থক। এর আগে তারা শহরের জামতলা এলাকাতেও তারা ঝটিকা মিছিল করেছে।

এদিকে যখন যুবলীগের মিছিলে ঘটনা নগরীতে আলেচনার কেন্দ্র বিন্দুতে, অন্যদিকে আড়াইহাজারে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার সাথে দ্বন্দ্বে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের খুনের ঘটনা আলোচিত হতে শুরু করে।

এছাড়াও সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আযহাকে ঘিরে শহর এবং শহরতলীতে অস্থায়ী কোরবানী পশুর হাটের টেন্ডার নিয়ে যখন বিএনপি নেতারা একে অপরের সাথে দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত তখন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবিতে ঝটিকা মিছিল করে আলোচনা সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা মিছিল করলেও কোথাও কোন মিছিলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ফতুল্লা থেকে মিছিলের প্রস্তুতির পূর্বে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অয়ন ওসমানের পোস্টার লাগানোর সময় একজনকে আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, পুলিশের উদাসীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়েই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফের মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামিনে বের হয়ে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কোন কোন এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের শেল্টারে নিরাপদে ছিলো আওয়ামী লীগের কর্মীরা। বর্তমানে সেই নিরাপদে থাকা কর্মীরা বিদেশ থেকে অর্থের বিনিময়ে শুরু করেছে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার প্রস্তুতি। 

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভাষ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাত কিংবা ভোরে হঠাৎ করে মিছিল বের করছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেছে নিচ্ছে খালি ও নির্জন সড়ক। যাদের মধ্যে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ফতুল্লার স্টেডিয়াম থেকে জালকুড়ি পর্যন্ত সড়ক এবং পঞ্চবটি এলাকা। মিছিল শেষে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে তারা। কখনও ঝটিকা মিছিল আবার কখনও মশাল মিছিল বের করে তারা। সেই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে পারছে তাদের কর্মকান্ডের খবর। এভাবে প্রকাশ্যে বিচরণ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর যেই জুলুম অত্যাচার চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। তা থেকে শিক্ষা না নিলে ফের আবারও একই ধরণের অত্যাচারের শিকার হবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি। ফলে তারা সংগঠিত হলে তা বিপদ হবে সকলের জন্যেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরো মনে করছেন, জুলাই পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল চেষ্টাকালে তাদেরকে সাধারণ জনগণই প্রতিহত করতে দেখা গেছে। এমন কি মিছিল থেকে দুইএকজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করার মতও ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে এমনটা দেখা যাচ্ছেনা। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মিছিল করলেও সাধারণ জনতা তাদের মিছিলে বাঁধা দিচ্ছেনা। মূলত সাধারণ মানুষের মাঝেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিরক্তি চলে এসেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে সেই তুলনা জামায়াত বা এনসিপি তাদের শক্ত প্রতিপক্ষ বা বিরোধী দল হয়ে উঠতে পারেনি। ফলে বিএনপি একক ভাবে অপ্রতিরোধ্য এবং বিপদজ্জনক হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি তাদেরকে ঠেকাতে হলেও আওয়ামী লীগে মত শক্ত কাউকে প্রয়োজন হয়তো এমন চিন্তা থেকেই সাধারণ জনতা এখন আর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিলে বাঁধা দিচ্ছেন না।