বিএনপির সরকার আমলে দুই সেতু নির্মাণ শেষে দ্রুত সময়ে বাস্তবায়নে পথে ছুটছে শহর-বন্দরবাসী। যার ফলে লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ স্বস্তি নিশ্বাস ফেলছে। একই সাথে বিএনপির সরকারের এমপি আবুল কালাম ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান সহ সংশ্লিষ্টদের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে সাধারণ জনগণ।
বন্দর ও সদরের দুই প্রান্তের মানুষের মাঝে যোগাযোগের পথ সৃষ্টি লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর উপর বহুল প্রত্যাশিত সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তিতে সরকার অদল বদলে সেতুটি বাস্তবায়ন আটকে থাকে। প্রায় ২০ বছর পর সেতুটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ১ জুন চীন সরকারের মালিকানাধীন চীনা রোড ও ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল প্রস্তাবিত সেতু’র নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ.দা.) মো. আজগর হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম।
এর আগে নগর ভবনের বৈঠক শেষে চীনের প্রতিনিধি দলটি নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রস্তাবিত হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতুর নির্ধারিত স্থান ও ভিত্তিপ্রস্তর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেতুর প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে চীনের প্রতিনিধি দলটি হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি পরিশোধন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয় তারা।
গত বছরের ১৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কদম রসুল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। নানা ধরণের জটিলতা নিরসন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে শুরু হয়েছে সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম। নারায়ণগঞ্জ সদরের এই প্রান্ত থেকে সেতুর মোবিলাইজেশনের কাজ অর্থাৎ নির্মাণ প্রকল্পের শুরুতে স্থান প্রস্তুত, জায়গা পরিষ্কার করা সহ কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানুজ্জামান।
সরেজমিনে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা পাড়ের খালের পাশে কুমুদিনী সংলগ্ন অংশে এবং আশপাশের জায়গা পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং কাজের জন্য স্থান প্রশস্ত করা এবং প্রকল্প স্থলে কিছু স্থাপনা সরিয়ে দিয়ে কাজের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে সেতুর নির্মাণের কার্যক্রম। সেতুটির মাধ্যমে শহরের ৫ নম্বর ঘাট এলাকার সঙ্গে অপর প্রান্তে বন্দর উপজেলার একরামপুর এলাকার সংযোগ করার মাধ্যমে বন্দর ও সদরের দুই প্রান্তের মানুষের মাঝে যোগাযোগের পথ সৃষ্টি হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পূর্বে দুই প্রান্তের মানুষদের দুর্ভোগ দূর করতে শহরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। মেয়র নির্বাচিত হয়ে আওয়ামীলীগ সরকার আমলে ২০১৭ সালে শীতলক্ষ্যার উপরে ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়কসহ ১ হাজার ৩৮৫ মিটার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে নাসিক। বন্দরের ঐতিহ্যবাহী কদমরসুল দরগাহের নামে এ সেতুর নামকরণ করারও সিদ্ধান্ত হয়।

















-20260603135648.jpg)
















আপনার মতামত লিখুন :