News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মানবিক বিবেচনায় শিথিলতায় আবারো দখল নগরীর ফুটপাত, রাস্তা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম মানবিক বিবেচনায় শিথিলতায় আবারো দখল নগরীর ফুটপাত, রাস্তা

পহেলা বৈশাখের পূর্বে ১৩ এপ্রিল নগরীর ফুটপাত থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করে জনসাধারণের হাটা চলার রাস্তা উন্মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানের ডাক দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সে সময় নারায়ণগঞ্জের সকল রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠন গুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পান তিনি। হকাররাও স্বেচ্ছায় ফুটপাত ছেড়ে দেন। ফলে একটি সফল উচ্ছেদ অভিযানে স্বস্তি ফেলে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ জনগণের। কিন্তু সপ্তাহ না পেরুতেই এসব হকারদের পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেন গণসংহতি আন্দোলনের নেতা অঞ্জন দাস এবং সিপিবি নেতা ইকবাল হোসেন। যা নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই দুজন নেতা নারায়ণগঞ্জে গণশত্রæ হিসেবে চিহ্নিত হলে প্রকাশে তারা হকারদের আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীতে হকাররা জাতীয়তাবাদী হর্কাস ইউনিয়নের ব্যানারে আন্দোলন করতে শুরু করে। একসময় তারা বিকেল ৫টার পর বঙ্গবন্ধু সড়কে বসতে দেওয়ার দাবি জানান।

কিন্তু এ দাবি মেনে না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিরোধীতা করেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক আবুল কাউসার আশা। তিনি হকারদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসন যৌথ ভাবে নগরীতে হকার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখেন। তবে হকাররা বার বার ঈদ পর্যন্ত তাদের বসতে সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের উপর হামলা চালায় হকাররা। সেই হামলার ঘটনা মামলা পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু মামলার পরপর হকাররা আবারো আবুল কাউসার আশার দ্বারস্ত হলে এখন পর্যন্ত ওই মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

মানবিক দিক বিবেচনায় হকারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন থেকে কিছুটা শিথিলতা আনলে ঈদের পূর্বে হকাররা আবারো পুরনো রূপে ফিরে আসে। যেসব স্থাপনা সিটি কর্পোরেশন থেকে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো সেই সকল দোকানপাট আবারো সাজিয়ে বসেন তারা। ঈদের পূর্বে হকাররা ফুটপাত সহ রাস্তাও দখলে নিয়ে অবৈধ ভাবে ব্যবসা করতে থাকেন।

তবে নগরবাসী ঈদকে সামনে রেখে মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি সাময়িকভাবে মেনে নেন। কিন্তু ঈদের পর যখন সকল কিছু খুলতে শুরু করেছে তখন হকারদের এক ভিন্ন রূপ দেখা যাচ্ছে। হকাররা এখন আবারো সেই পুরনো কায়দা ফুটপাত দখলের পাশাপাশি রাস্তাও দখল করে নিয়ে দোকান বসিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে নবাব সিরাজদৌলা সড়কে সিটি কর্পোরেশনে যেসব অবৈধ দোকানপাট ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছিলো সেই সকল দোকানপাট আবারো সাজিয়ে বসিয়েছেন। আর এসব হকারদের পেছন থেকে শক্তি জোগান দিচ্ছেন সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীদের উপর হামলা চালানো শাহজাহান, যাকে সবাই জুয়ারি শাহজাহানা বা বিদ্যুৎ চোর ছোট শাহজাহান হিসেবে চিনে। সে নিজে হকার না হলেও অবৈধ এসব হকারদের দোকানে বিদ্যুৎ লাইন দিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকে। আর তার দেওয়া ওই বিদ্যুতের লাইনও চোরাই। সরকারের বিল ফাঁকি দিয়ে সরকারি লাইনের তার থেকে চোরাই সংযোগ নিয়ে সে হকারদের দোকানে দোকানে লাইন দিয়ে প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকেন। সিরাজদ্দৌলা সড়কের চারারগোপ থেকে ১নং রেলগেট পর্যন্ত প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাধিক দোকানে শাহাজাহান চোরাই বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা অবৈধ ভাবে নিজের পকেটে ভরেন জানিয়েছেন ওই এলাকার বৈধ ব্যবসায়ীরা।