নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও আইফোন লুটের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দায়ের করা মামলায় প্রতারক চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে বন্দরের একরামপুর তালতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বন্দরের একরামপুর এলাকার মোঃ আলী আজগর মিয়ার ছেলে মো. কাওসার (২০), একই এলাকার মো. আরিফের ছেলে মো. রবিন (২২), মৃত আবুল কাশেমের ছেলে শান্ত (২৩), তাজুল ইসলামের ছেলে গোলাম রাব্বী (৩০), আবুল কালামের ছেলে আরিফ (২৮), নবীগঞ্জ বাগবাড়ি এলাকার বাশারের চেলে রনি কাজী (২২) ও কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকার মো. কাদিরের ছেলে সাকিব (২৫)। গ্রেফতারকৃতদের বুধবার আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, তিনি ঢাকার জোয়ার সাহারা উত্তর ভাষানটেক এলাকার বাসিন্দা এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএ ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। কিছুদিন আগে ওমেটিভি অ্যাপসের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের আরফা তানিয়া (২২) নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তানিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর দেখার করার জন্য বারবার বন্দরের কদমরসুল কলেজের সামনে আসতে অনুরোধ করে।
প্রেমিকার অনুরোধে গত ১৮ মে তিনি কদমরসুল কলেজের সামনে এলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা যুবক তাকে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার ৮শ’ টাকা এবং একটি ‘আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স’ ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা ক্যাশ আউট করে নেয় চক্রটি। এখানেই ক্ষ্যান্ত না হয়ে চক্রটি তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে শারীরিক নির্যাতন চালায়। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে তাকে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় চক্রটি।
বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।






































আপনার মতামত লিখুন :