News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

মাদক কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বন্দরবাসী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম মাদক কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বন্দরবাসী

মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাং রোধে বন্দরবাসী একত্রে হচ্ছে প্রতিটি পাড়া মহল্লায়। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আবুল কালাম ইতোমধ্যে মাদক বিরোধী অবস্থানে সাধারণ মানুষ এখন মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে ১৯ ও ২০নং ওয়ার্ড সহ উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিরোধী ও কিশোর গ্যাং বন্ধে এলাকাবাসী ও পঞ্চায়েতকে সক্রিয় দেখা গেছে। রাজনীতি অঙ্গণের প্রভাব বিস্তার করার পায়তারা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং নিজেদের অবস্থান দেখা গেছে। ইতোমধ্যে বন্দর পুলিশের উপর হামলা ও নৃশংসা হত্যাকান্ডে পিছনে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংদের প্রভাবে হয়ে বলে দাবি করেছে এলাকাবাসী।

বন্দর থানা নতুন ওসি জামাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে নিয়মিত সাড়াঁশি অভিযান পরিচালনা শুরু করছে। ৩রা জুলাই বড় মাদকবিরোধী অভিযানে মদনগঞ্জ কর্ণফুলী ডকইয়ার্ড এলাকা থেকে ১৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে আটক করা হয়।

গত মে ও জুন মাসে বন্দরের কয়েকটি এলাকায় মসজিদে মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক বিক্রি ছাড়তে হুংকার দেয়া হয়। যার কারণে ওই সময়ে পুলিশের কাছে নিজেরা আত্মসমপর্ণ করলেও আবার সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। যার কারণে বন্দর সিটি কর্পোরেশনের কয়েক ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

জানা গেছে, ১৯ ও ২০নং ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসা ও সেবনকারীদের দৌরাতœ ঠেকাতে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মিছিল করেছে। ৪ জুলাই মদনগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা হতে এ কর্মসূচীতে সাবেক কাউন্সিলর, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতারা ও পঞ্চায়েত সহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত হন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন। তার ছেলে ও রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশাও যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এই কাজেই কোনক্রমেই মাদক ব্যবসায়ীদেরকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গেলে নানা রকম বাধ-বিপত্তি থাকবেই এসব উপেক্ষা করেই আমাদেরকে এই ১৯ এবং ২০নং ওয়ার্ড থেকে মাদককে চিরতরে উৎখাত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন মাদক বিরোধী অবস্থানে রয়েছে, সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল কালাম ও তাঁর রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তাঁর নির্দেশে ও রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার দিকনির্দেশনায় বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী আটক হয়েছে। এলাকার মাদক নির্মূল ও সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে এমপি আবুল কালাম জানিয়েছেন, তিনি সব ধরনের বৈষম্য ভুলে জনগণের কল্যাণে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল জনগণের জন্য আমরা কাজ করবো। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্যই আমরা মাঠ পর্যায়ে এসেছি। আমরা ঘরে বসে নেই, সবসময় আপনাদের পাশেই আছি।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ শহর-বন্দরে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউছার আশা। তিনি বলেন, প্রশাসনের একার পক্ষে এসব সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব নয়, এজন্য সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আসুন সবাই ঐক্য করি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি।” একটি নিরাপদ, শান্তিময় ও সুন্দর সমাজ গঠন সবার প্রত্যাশা হলেও বর্তমানে মাদক, কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা এবং ইভটিজিং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আশা বলেন, আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রশাসন কাজ করছে, কিন্তু আপনাদের তথা সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই অন্ধকার দূর করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকায় মাদক কেনাবেচা বা সেবনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। পাশাপাশি তার কার্যালয়ে সংরক্ষিত অভিযোগ বাক্সে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সন্তানরা অবসরে কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে মিশছে, সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকা- ও গ্যাং কালচার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আবুল কাউছার আশা বলেন, আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তাঘাট বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কোনো ইভটিজার বা উত্যক্তকারীকে দেখলে দলমত নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। আপনার একটি সচেতন পদক্ষেপ একটি পরিবারকে রক্ষা করতে পারে, একটি জীবনকে নিরাপদ করতে পারে।

রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি, তাই মতভেদ থাকবেই। তবে দিন শেষে আমরা একই সমাজের বাসিন্দা। আসুন, দলমত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপরাধমুক্ত, মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলি।