ফতুল্লার মাসদাইরে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান (২৫) নামে যুবককে বেধড়ক পেটাতে থাকে কয়েকজন যুবক। পরে যোগ দেয় কয়েকজন মাওলানা প্রকৃতির মানুষ। পাঞ্জাবী পরিচিতি এসব মাওলানারা মোটা লাঠি দিয়ে একের পর এক পেটাতে থাকে। সঙ্গে ছিল আরো একজন। তারা বার বার আকুঁতি জানালেও মন গলেনি।
৪ জুলাই শনিবার বিকেলে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সে রাতেই সেজান মারা যায়।
নিহত সিজান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিযার ছেলে।
ইন্নু মিয়া জানান, এলাকার মসজিদের ইমাম কাউছার সম্প্রতি এলাকায় একটি সামাজিক সংগঠন করেছে। এ সংগঠনে অন্তত ৩০/৪০ জন সদস্য রয়েছে। কাউছার তার এ বাহিনীর লোকজন দিয়ে এলাকার অনেক যুবক ছেলেদের ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করেছে। শনিবার রাত ৮টায় আমার ছেলে সিজানকে বাসা থেকে কাউসারের নেতৃত্বে অন্তত ৩০/৪০ জন কিশোর ও যুবক বয়সের ছেলেরা ধরে নিয়ে যায়। এরপর মাসদাইর মোড়ে বিদ্যুতের খুটির সাথে বেধে বেধরক পেটানো হয়। তার ডান পায়ে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ভেঙ্গে দেয়া হয়। তখন নিথর হয়ে পড়লে মসজিদের ইমাম কাউসার খুটি থেকে হাতের বাধন খুলে আমার কাছে দিয়ে বলেন চিকিৎসা করো। এরপর খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ‘আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন’ পাল্টা বক্তব্য দিয়ে নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছে।
সংগঠনটির দাবি, বিক্ষুব্ধ বহিরাগত জনতার হাত থেকে সিজানকে উদ্ধার করে সুস্থ অবস্থায় তার মায়ের কাছে মুচলেকা রেখে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের ডেকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় আল ফালাহ সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম মুফতি কাওছার কাসেমী বলেন, “নিহত সিজান এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী ছিলেন এবং তার কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। তাকে সংশোধনের জন্য আগে বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি ‘বায়তুস সাকাফাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন’-এর সহযোগিতায় তাকে ৪০ দিনের চিল্লাতেও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু ফিরে এসে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”
কাওছার কাসেমীর দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সিজানকে ধরে তাদের কাছে নিয়ে আসে। এ সময় তারা নামাজ শেষে বিষয়টি দেখার কথা জানিয়ে মসজিদে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। পরে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে তার মা অনুরোধ করায় মুচলেকা নিয়ে সুস্থ অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, সিজানের কাছে তখন সুইচ গিয়ার ও মাদকদ্রব্য পাওয়া গিয়েছিল। তার মৃত্যুর পর সংগঠনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংগঠনের নেতা জিলানি ফকির সাহেব বলেন, “সিজানকে মারধরের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে তাদের কোনো সদস্য জড়িত ছিলেন না। তারা তখন নামাজে ছিলেন এবং বহিরাগত ক্ষুব্ধ লোকজনই মারধর করে থাকতে পারে।”
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু করা হবে।”







































আপনার মতামত লিখুন :