নারায়ণগঞ্জে চোখ রাঙ্গাচ্ছে ডেঙ্গু। শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় হাসপাতাল গুলোতে বাড়ছে রোগীদের চাপ। নাসিক কর্তৃপক্ষ ২৭টি ওয়ার্ডে ডোবা নালাসহ ৫২ টি হটস্পট চিহৃিত করেছে। সেসব স্থানে মশক নিধনে ওষুধ ছিটানো নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামাঞ্চলেও। গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের খানপুরে ৩০০ ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। চলতি আগস্ট মাসে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। আইসিইউ ওয়ার্ড ও মেশিন থাকলেও চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদ শূণ্য থাকায় মিলছে না কাঙ্খিত সেবা। ডেঙ্গুর জটিল অবস্থায় প্লাটিলেট কমে গেলে রোগীদের পাঠানো হচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। চলতি বছরে ৮ শতাধিক রোগী সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন পৌনে ৭শ জন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ২৭টি ওয়ার্ডে ডোবা নালাসহ ৫২ টি হটস্পট চিহ্নিত করেছে। সেসব স্থানে মশক নিধনে ওষুধ ছিটানো নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে দাবি নাসিক কর্তৃপক্ষের। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটির বাহিরেও রয়েছে অসংখ্য ময়লার ভাগাড়। গ্রামাঞ্চলেও ডোবা নালা ড্রেনগুলোতে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে এডিস মশার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা ও তাদের স্বজনরা বলছেন, এলাকার বিভিন্ন স্থানে ডোবা নালা পরিত্যক্ত স্থান অপরিস্কার অপরিচ্ছন্ন হওয়ায় মশার উপদ্রব। তাদের এলাকার অনেক রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক ডা: মুশিউর রহমান জানান, তাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও অন্যান্য উপাদান পর্যাপ্ত রয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে থাকে। জেলার দুটি হাসপাতালে আইসিইউ রয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তারা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতালে যেসব এলাকা থেকে রোগীরা আসছেন তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর পাশাপাশি বেড়েছে চিকুনগুনিয়া ও টাইফয়েডে আক্রান্তের সংখ্যাও। মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার উদ্যোগ নিবে এই প্রত্যাশা সকলের।




































আপনার মতামত লিখুন :