নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ভয়াবহ সংকটের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের রান্নাবান্না প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গ্যাসের ছিটেফোঁটাও চাপ না থাকায় আধুনিক রান্নাঘর ছেড়ে বাধ্য হয়ে হাজারো পরিবারকে ঝুঁকতে হচ্ছে আদিম পদ্ধতির মাটির চুলা ও জ্বালানি কাঠের দিকে।
এই চরম দুর্ভোগ আর কর্তৃপক্ষের নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে বিষয়টি নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) দিনভর গ্যাস না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নেটিজেনরা বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য ও পোস্ট করছেন। একজন ক্ষুব্ধ নাগরিক লিখেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসেও পেটের দায়ে ফের মাটির চুলার ধোঁয়া টানতে হচ্ছে, এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে!
ভুক্তভোগী গৃহিণী আসমা বেগম জানান, দিনের বেলা তো দূরের কথা, রাতের গভীর কিংবা ভোরের দিকেও গ্যাসের দেখা মেলে না।
পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা সুমনা আক্তার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গ্যাসের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে রান্নার সময় পার হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় কাঠ পুড়িয়ে রান্না করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ ও সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়ায় পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকার বাসিন্দা নিলা আকতার বলেন, চুলায় সামান্য আঁচও থাকে না। মাসের নির্ধারিত গ্যাস বিল ঠিকই দিতে হয়, অথচ রান্নার জন্য বিকল্প হিসেবে কাঠ বা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এই গ্যাস সংকটের যন্ত্রণায় আমাদের জীবন অতিষ্ঠ।
নাগরিকদের এই তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের মেঘনা শাখার ম্যানেজার সুরজিত সাহা জানান, গ্যাস সংকট শুধু সোনারগাঁয়ের স্থানীয় কোনো সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় সমস্যা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ কমেছে। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস বরাদ্দ না পাওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
তবে অবৈধ সংযোগ ও গ্যাস চুরির বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।








































আপনার মতামত লিখুন :