নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন দুই সংসদ সদস্যের ছেলে। নির্বাচিত হওয়ার ১৪ দিন এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের দুই সংসদ সদস্য তাঁদের ছেলেদের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে বাবার রাজনৈতিক পথেই আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁটতে শুরু করেছেন তাঁরা। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে সমন্বয়, দলীয় ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এমপির পক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব পাওয়ায় ধীরে ধীরে নিজেদের রাজনৈতিক পরিসরও তৈরি করছেন দুই এমপি পুত্র। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকের মতে, এটি কেবল পারিবারিক সহযোগিতার বিষয় নয়; বরং ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিতিতে কিংবা পরবর্তী নির্বাচনে তাঁদের পরিবারের রাজনৈতিক ভূমিকা কী হবে এ প্রশ্নে ইতোমধ্যেই দুই এমপির ছেলেদের নাম সামনে আসতে শুরু করেছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। নির্বাচনের মাত্র ১৪ দিন পর, গত ৭ মার্চ তিনি তাঁর একমাত্র ছেলে আবুল কাউসার আশাকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন। এর প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর একই পথে হাঁটলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। গত ৯ আগস্ট তিনি তাঁর একমাত্র ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন।
দুই নিয়োগপত্রের ভাষ্যও অনেকটা একই। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে সহযোগিতা করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং এমপির পক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের। ফলে রাজনৈতিক সচিবের পদটি কার্যত দুই এমপি পুত্রকে বাবার রাজনৈতিক কর্মকা-ের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
আবুল কাউসার আশা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক কার্যক্রম সমন্বয়ের একটি আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও যুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান তাঁর একমাত্র ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে একই ধরনের দায়িত্ব দিয়েছেন। ৯ আগস্ট স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে সজীবকে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনে সহযোগিতা এবং এমপির পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুই এমপি পুত্রই রাজনীতিতে একেবারে নতুন নন। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয়তা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব তাঁদের জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা না হলেও বাবার রাজনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের নিয়মিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার মধ্যে নির্বাচনী এলাকার নানা বিষয় সামলাতে রাজনৈতিক সচিবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই এমপি পুত্রের নিজস্ব রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা কতটা তৈরি হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্ব নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবার থেকে পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের উত্থান ঘটেছে। এবার দুই সংসদ সদস্যের ছেলেদের একই ধরনের দায়িত্ব দেওয়াকে সেই ধারাবাহিকতার নতুন সংযোজন হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে রাজনৈতিক সচিবের পদ পাওয়া মানেই যে ভবিষ্যতে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়া বা বাবার উত্তরসূরি হওয়া এমন নিশ্চয়তা নেই। শেষ পর্যন্ত তাঁদের রাজনৈতিক দক্ষতা, দলীয় গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণ করবে।
তবু রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে দুই এমপি পুত্রের সামনে সেই প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলতে পারেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই এমপি যদি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন, তাহলে তাঁদের ছেলেরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বিশেষ করে কোনো কারণে বর্তমান সংসদ সদস্যরা মাঠে না থাকলে কিংবা নির্বাচনী রাজনীতিতে তাঁদের ভূমিকা সীমিত হলে, পরিবারের তরুণ প্রজন্মের ওপরই অনেকটা নির্ভর করতে হতে পারে।






































আপনার মতামত লিখুন :