নারায়ণগঞ্জে বসতবাড়ি শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে গৃহীনিরা। বিশেষ করে কর্মজীবীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আবাসিক ঘরবাড়িতে সারাদিনই চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন কম। গ্যাস সংকটে বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীদের জন্য লাকড়ির চুলায় রান্না করতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গ্যাস না থাকায় লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বসতবাড়িতে গিয়েও শান্তি পাচ্ছেন না।
সদর উপজেলার আওতাধীন শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় চলছে গ্যাসের তীব্র সঙ্কট। শহরের দেওভোগ, কাশিপুর, বাবুরাইল, পাইকপাড়া, শহীদ নগর, নলুয়াপাড়া, ভূঁইয়ারবাগ, চাঁনমারী, ইসদাইর, মাসদাইর, পশ্চিম মাসদাইর, জামতলা, দাতা সড়ক প্রভৃতি এলাকায় গ্যাস সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কাশীপুর, মাসদাইর, বাড়ৈভোগ ও বিসিক শিল্প নগরীর আশপাশ এলাকায়। এসব এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস থাকে না বললেই চলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহর ও শহরতলীর কোন কোন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকেনা। রাতেও গ্যাসের পরিমাণ অনেকটা কমে আসে।
এভাবে বিভিন্ন এলাকাতে গ্যাস সংকটের কারণে অনেকে ভীষণ দুর্ভোগ পোহচ্ছেন। আর উপায় না পেয়ে অনেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মাটির চুলো কিংবা স্টোভ দিয়ে রান্নার কাজ করছে। অন্যদিকে গ্যাসের বৈধ সংযোগ দেয়া হয়না বলে জেলার বিভিন্ন এলকাতে অবৈধ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে করে গ্যাস সংকট ধীরে ধীরে আরো তীব্র হচ্ছে। দফায় দফায় মোবাইল কোর্টের হানা সত্ত্বেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ হচ্ছেনা। এ নিয়ে স্থায়ী কোন সমাধানে আসতে পারছেনা বলে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
দেওভোগ এলাকার ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত অনেক বছর ধরেই গ্যাস সংকটে আমরা ভুগছি। এমপি-মেয়র সবাই আছে তবুও এই সংকট থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা। এ নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। সবাই যার যার মত রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে শুধু গ্যাস বিল বাড়ায় কিন্তু কেউ আমাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেনা। গ্যাস নাই তবু গ্যাস বিল নিচ্ছে।
তিতাসের ডিএমডি ইঞ্জিনিয়ার রাজিব কুমার সাহা জানান, নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে ৮২ হাজারের মতো বৈধ সংযোগ আছে। সে অনুযায়ী গ্যাসের এত বেশি সংকট হওয়ার কথা না। তবে বিভিন্ন স্থানে লাইন ফেটে গ্যাস লিক করা, গ্যাসলাইন ব্লক ইত্যাদি কারণে প্রবাহ ব্যাহত হয়। বিভিন্ন এলাকাতে অনেক অবৈধ সংযোগ আছে বলেও তাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন মেরামত কাজের জন্য অনেক সময় সরবরাহ কমে যায়। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। বৃহস্পতিবার এটি ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা। এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে এটি হচ্ছে।
তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ডিজিএম মনজুর আজিজ মোহন বলেন, ‘আমাদের এলএনজি সরবরাহের প্রধান উৎস এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড গ্যাসিফিকেশন ইউনিট)-এর দুটি ইউনিটের মধ্যে একটিতে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছিল। সেটি মেরামত শেষে নতুন করে সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ কারণে গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহে স্বল্পতা তৈরি হয়েছে। আমাদের ধারণা, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে পারে।’




































আপনার মতামত লিখুন :