জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নারায়ণগঞ্জে জয়লাভের পর এবার সংগঠন গোছাতে মনোযোগী হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। ধুঁকতে থাকা অন্যান্য দলগুলোর হতাশ এবং অবমূল্যায়িত নেতাকর্মীরা ঝুঁকতে শুরু করেছেন এনসিপির দিকে। তরুণদের বড় একটি অংশ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আকর্ষণ থেকে আগ্রহ দেখাচ্ছে এই দলের প্রতি। এই সুযোগে নারায়ণগঞ্জে ঢেলে সাজানো হচ্ছে দলটিকে।
জাতীয় নির্বাচনের পর একে একে গঠন করা হয় এনসিপির একাধিক কমিটি। জেলা ও মহানগর এনসিপির কমিটি গঠিত হয় নির্বাচনের আগেই। নির্বাচনের পর গঠন করা হয় এনসিপির ফতুল্লা, বন্দর ও আড়াইহাজার থানা কমিটি। পাশাপাশি যুবশক্তির জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে গঠন করা হয় মহানগর যুবশক্তির কমিটি। অপেক্ষায় আছে জেলা কমিটির কার্যক্রম। ছাত্রশক্তির ফতুল্লা, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি প্রদান করা হয়। এছাড়া নারী শক্তি, শ্রমিক শক্তির আলাদা কমিটিও তৈরি করা হয়েছে।
এনসিপির নেতারা বলছেন, কেবল দলীয় কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সাংগঠনিক বিস্তার। পর্যায়ক্রমে আলিয়া মাদ্রাসা, কওমি মাদ্রাসা, শিক্ষক, আইনজীবী, আলেম ওলামা, চিকিৎসক, প্রকৌশলীদের নিয়েও আলাদা সংগঠন করার কার্যক্রম চলছে। সেন্ট্রালে এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সেগুলোর অনুসরন করে নারায়ণগঞ্জেও কমিটি দেয়ার জন্য আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
অন্যদিনে নির্বাচনে এই জেলার চারটি আসনে জয় পেলেও সাংগঠনিক ভাবে ছন্নছাড়া অবস্থায় আছে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যক্রম চলছে ধীমেতালে। জেলা বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা তিনটি দায়িত্বে রয়েছেন। আহবায়ক জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু সংসদ সদস্য এবং যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান। নিজ নিজ দায়িত্বে থাকার কারনে সাংগঠনিক কাজে তেমন সময় দিতেই পারছেন না তারা। থানা পর্যায়ের কার্যক্রম চলছে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই।
মহানগর বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত বহু আগে থেকেই। এখন সেটি আরও কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়েছে নেতাদের কোন্দলের কারনে। মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান আছেন নাসিক প্রশাসক পদে। যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব পদে। সবশেষ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেখা গেছে এই কমিটির নেতারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করছেন।
এছাড়া জেলা যুবদলের তিন সদস্যের মধ্যে আছেন দুজন। মহানগর যুবদলের কার্যক্রম দুই জন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ছাত্রদলের কমিটি নেই দুই বছর ধরে। স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। একই ভাবে কৃষক দল, শ্রমিক দলের কার্যক্রম আছে কেবলই খাতা কলমে। আসছে না নতুন নেতৃত্ব। সাংগঠনিক ভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে পুরো দল। এমপি আর বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ঘিরেই চলছে বিএনপির নেতাকর্মীদের আনাগোনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দলের চালিকাশক্তি দলের নেতাকর্মী ও সাংগঠনিক চেইন। কিন্তু বিএনপি সেখানে পিছিয়ে পড়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এই জেলার কোন কমিটিতেই নতুন করে সাজায় নি সেন্ট্রাল। বরং ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে দেয়া হয়েছে। ছন্নছাড়া অবস্থায় চলছে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম। যা ক্রমেই নেতাকর্মীদের হতাশ করছে এবং সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে দলটিকে।






































আপনার মতামত লিখুন :