নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ঘনিষ্ঠজন আখ্যা দিয়ে চলছে বিএনপির দুই পক্ষের কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি। অথচ আইভী থাকাকালে বিএনপির বহু নেতাই গোপনে বা প্রকাশ্যে যোগাযোগ রাখতেন আইভীর সাথে। এমনকি প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি খোদ নিজেদের প্রার্থী বসিয়ে দিয়েছেন আইভীর জয় নিশ্চিত করার জন্য।
সেই আইভীর সাথে কে সুসম্পর্ক রাখতেন কে রাখতেন না এনিয়ে চলছে কাঁদা ছোড়াছুঁড়ি। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করে আসা নেতা নেত্রীদের দেয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগের দালাল বা দোসর ট্যাগ। মূলত নারী সংস্থার চেয়ারম্যান পদকে ঘিরেই চলছে এই প্রতিযোগিতা। মাঝে থেকে বিনা পরিশ্রমে রাজনীতির আলোচনায় সামনে উঠে এসেছেন আইভী।
সম্প্রতি মহানগর বিএনপির এক সমাবেশে নেতাদের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে বিএনপির প্রবীন নেত্রী রাশিদা জামালকে আওয়ামী লীগের দালাল বলে সম্বোধ ঙ্করেন নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর ও আইভী ঘনিষ্ট নেত্রী আফসানা আফরোজ বিভা। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিভার ছবি প্রকাশ করা শুরু করেন রাশিদা জামালের ছেলে রাফি উদ্দিন আহম্মেদ রিয়াদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভার সাথে আইভী, নজরুল ইসলাম বাবু, গোলাম দস্তগীর গাজী, ডিবি হারুন সহ গোপালগঞ্জে শেখ মুজিবের মাজারে গমনের ছবি প্রকাশ করেন।
পাল্টা জবাবে আইভীকে প্রকাশ্যে সুনাম করতে থাকা রাশিদা জামালের একটি ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা যায় বিভা সমর্থকদেরকে। বিএনপি নেত্রীদের এমন পাল্টাপাল্টি মন্তব্য এখন জেলার রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু। বিষয়টি নিয়ে অযথা এবং অহেতুক কাঁদা ছোঁড়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির নেতারা বলছেন, জামাল উদ্দিন কালু, রাশিদা জামাল, রাফি উদ্দিন আহমেদ রিয়াদ প্রত্যেকেই আন্দোলন সংগ্রামের সাথে যুক্ত। বিশেষত তাদের বাড়িটিই ছিল বিএনপির অঘোষিত কার্যালয়। আন্দোলন করতে কারাবরণ, নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন জামাল পরিবার। অন্যদিকে বিভা আওয়ামী লীগ আমলে প্যানেল মেয়র হবার যোগ্যতা অর্জন করেও দল ত্যাগ করেনি। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছাকাছি থাকলেও নিজ দলের পরিচয় সর্বদাই বহন করে বেড়িয়েছেন। সেই সাথে নানান সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের ডেকে সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন ব্যক্তিগত অবস্থানের কারনে। ফলে দালাল আর দোসর ডেকে তাদের অবদানকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, ওসমান পরিবারের বিপরীতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে দাড়িয়েছিলেন আইভী। তার সাথে ছিলো এই শহরের সাধারণ মানুষ। যেখানে বিএনপি, জামায়াত সহ অপরাপর সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছিলো সুসম্পর্ক। দলান্ধতা বা দলকানা আচরণ না করার কারনে আইভী নিজ দলেও ছিলেন কোনঠাসা। তীব্র চাপ উপেক্ষা করেও সকলকে সাথে নিয়ে চলেছেন আইভী। বিপদে করেছেন সহযোগিতা। ফলে তাকে জড়িয়ে বিএনপির কাউকে অপদস্ত করতে চাইলে সাধারণ মানুষই তা গ্রহণ করবে না। কারণ মানুষ এই শহরের রাজনীতির খুটিনাটি সম্পর্কে অবগত।






































আপনার মতামত লিখুন :