সরকারি নির্ধারিত 'ফি'র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া সত্বেও নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
মানুষেরা দেড় থেকে তিন হাজার টাকা দেওয়া সত্বেও জন্মনিবন্ধন কিংবা নাগরিক সনদ দিতে তালবাহানা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত ওয়ার্ড সচিব মো. রাসেলের আহমেদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে,২০২৪ এর ৫ আগষ্ট আওয়ামী শাসনামলের পতন ঘটলে দেশের সকল সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের অপসরণ করা হয় এবং ওয়ার্ডবাসীর নাগরিক সেবা চালু রাখতে কাউন্সিলরদের অবর্তমানে সচিবদের দায়িত্ববার দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ৩নং ওয়ার্ডে নাগরিক সেবা ব্যাহত হতে শুরু করেন।
তবে সবশেষ সরকার কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেনকে সিটি প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতিটি ওয়ার্ডের সচিবকেও রদবদল করা হয়েছে। তবে এই রদবদলের মাধ্যমে মানুষের ভোগান্তি কমার প্রত্যাশা তৈরি হলেও পূর্বের মতোই রয়ে গেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মানুষজন জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স কিংবা নাগরিক সনদের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের দারস্থ হলে তাদের কাছ থেকে সরকারি ফি এর বাহিরেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কোনোকোনো ক্ষেত্রে দালিলিক প্রমাণ না রাখতে সচিবের পরিবর্তে সহকারীর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে কিংবা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনের খবর রটেছে। সচিবের সহকারীর অর্থ লেনদেনসহ এমন দুটি অডিও এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। সেই অডিওতে ভুক্তভোগীরা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা বলতে শোনা গেছে।
আরো জানা যায়, নাগরিক সেবার নামি বাড়তি টাকা আদায় এবং মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার ঘটনা জনসাধারণের মুখের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সুত্রে জানা গেছে, জন্মনিবন্ধন কিংবা নাগরিক সনদের আবেদন ফি ৫০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। এর বাহিরে কোনো অর্থ আদায় হলে সেটা বেআইনি বলে ধার্য হবে।
৩নং ওয়ার্ডের হোসেন নামক ভুক্তভোগী এক স্থায়ী বাসিন্দা জানান, গত ৩ মাস ধরে আমি আমার বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছি কিন্তু সচিবের অফিসের কেউ আমার জন্ম নিবন্ধন দিচ্ছেন না। অথচ এখন পর্যন্ত আমি তাদেরকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলে তারা আমাকে কখনো জিডি করার কথা আবার কখনো আইজিপি বরাবর দরখাস্ত করার কথা বলে যাচ্ছে।
আরিফ নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমি ইতোমধ্যে সচিবের অফিসের লোকদেরকে ২ হাজার টাকা দিয়ে আসছি এখন ফোন করে বিকাশের আরও হাজার খানেক টাকা চাচ্ছেন।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিক ৩ নং ওয়ার্ডের সহকারী উদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, আমাদের অফিসে কম্পিউটারসহ যাবতীয় সরঞ্জাম না থাকায় বাহিরে আবেদন করা লাগে। যারা সেবা পেতে আসে তাদের কাছ থেকে আমাদের সচিব রাসেল ভাই যাতায়াত ভাড়া বাবদ ২'শ করে টাকা নিতে বলেছে। এটা শুধু যাতায়াত। ১৩০০ টাকা দাবির অডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো বা ওই ব্যক্তির দুইটা আবেদন ছিল যার প্রতিটির আবেদনসহ ৩০০ টাকা করে ধার্য। এটা আবেদন আর সরকারি ফি। মূলত আমরা রাসেল ভাইয়ের কথায় দুইশো করে নেই।
দায়িত্বরত সচিব মো; রাসেলের আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রথমত আমার অফিসে ট্রেড লাইসেন্স করা হয়না। আর কাজ করতে গিয়ে যাতায়াত বাবদ মানুষের কাছ থেকে ১'শ করে টাকা নেওয়া হয়। এটা শুধুই যাতায়াত। ১-৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়না। মূলত অনেক মানুষ প্রতিহিংসা পরায়ণে আমার বিরুদ্ধে এসব কথা বলেন। আমি একজন রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট, বিএনপির মিডিয়া সেলে কাজ করি। আমাকে ৪ মাস হয় প্রশাসক সাখাওয়াত ভাই সচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে নানা সময়ে ব্যস্তায় থাকা লাগে। তবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বলতে শুধু ১'শ করেই নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগে শাহজালাল বাদলের সচিব ছিল। তারা হয়তো টাকাপয়সা নিয়েছে। কিন্তু আমার অফিসে যারা কাজ করেন তাদের সাথে নিয়মিত আমি যোগাযোগ করি তারা অনেক ভালো ছেলে। তারা এসব করবে না।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান জাগো নিউজকে বলেন,অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ভুক্তভোগীরা আমার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেই তদন্ত করে সচিবকে বাদ দিয়ে দিবো।






































আপনার মতামত লিখুন :