News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভয়াবহ সঙ্কটে গার্মেন্ট কারখানা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম ভয়াবহ সঙ্কটে গার্মেন্ট কারখানা

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে বসতবাড়ি শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের প্রয়োজনীয় প্রেসার না থাকায় অনেক কারখানায় মেশিন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ব্যয়, আর শঙ্কা তৈরি হয়েছে সময়মতো রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়েও। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, জ্বালানি সংকট এবং লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ পার্সেন্ট কমে গেছে। সময়মত অর্ডার সাপ্লাই দিতে না পারলে মালিক ক্ষতির মুখে পরবে। সেই সাথে পরবর্তী অর্ডার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরী হবে। আমাদের আশংকা এই উৎপাদন কমে যাবার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগ না নিলে আমরা বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বো।

তিনি আরও বলেন, অর্ডার চলে যাচ্ছে প্রতিযোগী দেশে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

কারখানা মালিকেরা জানান, আমরা যদি ঠিকভাবে প্রোডাকশনটা দিতে চাই গ্যাসের চাপ ৮ থেকে ৯ পিএসআই লাগবে। বর্তমানে মিলছে মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপ। অথচ স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৮ থেকে ৯ পিএসআই। তাই বাধ্য হয়ে কারখানার একাংশ বন্ধ রেখে অন্য অংশ চালাতে হচ্ছে। গ্যাস কম পাওয়ার কারণে প্রোডাকশন ২০ শতাংশের মতো কমে গেছে।

একজন কারখানা মাুলক বলেন, শিপমেন্ট সিডিউল আমাদের নির্দিষ্ট এবং আমরা খুবই অল্প সময় পাই। দেড় থেকে দুই মাস সময় পাই উৎপাদন করতে, একটা শিপমেন্ট শিডিউল ধরে রাখার জন্য। শিপমেন্টটা করতে আমাদের অনেক লেট হয়। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে বায়ার আমাদের সেটা ক্লেইম করে, অর্ডার কম দেয়। সেজন্য আমাদের অনেকটা বিপদগ্রস্ত হতে হয়।

গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমবে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানিও হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। তাই দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি শিল্প সংশ্লিষ্টদের।