সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দুলাল দেবনাথ যাকে নারায়ণগঞ্জের ভূমি সেক্টরের ম্যারাডোনা বলেই জানেন অনেকে। নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, ফতুল্লা, গোদনাইল হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে এই জেলাতেই তিনি চাকরি করছেন প্রায় দুই যুগ ধরে। এই দুই যুগে নারায়ণগঞ্জের অনেক ডিসি এসেছেন চলে গেছেন, এসিল্যান্ড এসেছেন চলে গেছেন কিন্তু দুলাল দেবনাথ নারায়ণগঞ্জে রয়ে গেছে। একবার তাকে অন্যত্র বদলী করলেও মাত্র দুমাসের ব্যবধানে আবারো নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসেন।
নিউজ নারায়ণগঞ্জের হাতে আসা দুলাল দেবনাথ ও নামজারির জন্য ১০ শতাংশ জমি দাবি করা ওই সেবা গ্রহীতার কথোপকথনের ওই অডিওতে দুলাল দেবনাথকে বলতে শোনা গেছে, যদি আমাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলীও করে দেয় আমি উপর মহলে যে পরিমাণ টাকা খরচ করি আমার ফিরে আসতে মাত্র দুই মাস লাগবে।
ওই অডিওতে দুলাল দেবনাথকে আরো বলতে শোনা যায়, উপরের মহলকে ম্যানেজ করেই কাজ করতে হয়। দুইটা টেবিল খুশি রাখতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপরের দুটি টেবিল হলো এসিল্যান্ড এবং তার উপরের টেবিলতো হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব)।
প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে কি দুলাল দেবনাথ এসিল্যান্ড এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককেও ঘুষের টাকার ভাগবাটোয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন।
ওই অডিওতে তিনি আরো বলেন, আমি তো বলতে চাইনা, শুনেন টাকা এখানে কামাই এই টাকা লন্ডনেও যায়, আমার একজন ঘনিষ্ট বন্ধু থাকে ল-নে, সে তারেক রহমান বন্ধু, আমাকে টাকা দিলে সেই টাকা যাবে লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে। আমি তো এসব বলি না।
এদিকে দুলাল দেবনাথের দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুখ খুলতে শুরু করেছে ভোক্তভোগীরা।
এমনকি দুলাল দেবনাথের এমন কর্মকান্ডের কারণে হিন্দু সম্প্রদায়কে মালোয়ান বলেও কটাক্ষ করছেন অনেক ভুক্তভোগী।
ফেরদৌসি আক্তার রেহেনা নামের এক নারী দুলাল চন্দ্র দেবনাথের ছবি সহ নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, দুলাল চন্দ্র দেবনাথ তার কাছে কেউ ভূমি সংক্রান্ত কোন কাজ নিয়ে গেলে সে ডিরেক্ট বলে টাকা পয়সা দরকার। এই শালায় সদর খাইছে, বন্দর খাইছে এখন খাইতাছে সিদ্ধিরগঞ্জ, আমার একটি জমি মিউটিশন করতে ৫ লাখ টাকা চেয়েছে। আমি উপর মহলের একজনকে জানানোর পর সে ২লাখ টাকায় সমাধান করে দিবে বলছে, কিন্তু আমি তাকে একটি টাকাও দেই নাই। আল্লাহ তার কঠিন বিচার করবো। মালোয়ানকা বাচ্চা কাবি নাহি আচ্ছা।
যুবায়ের বাবু নামের এক ব্যক্তি কমেন্টে লিখেছেন, এই দুলাল বাবু সম্প্রতি কলেজ রোডে সাত্তার ও ফিরোজা টাওয়ারে একটা বিলাস বহুল ফ্ল্যাট ক্র করেছে। সাত্তার ও ফিরোজ টাওয়ার ল্যান্ড মালিক জাহিদ সাহেব এর কাছ থেকে।তিনি ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ব্যবহার করে এবং তার ম্যানেজার এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য নারায়ণগঞ্জের তার কয়েকটি বাড়ি আছে। তার নামে বেনামে অনেক আয়বর্হিভূত সম্পদ আছে। অনতিবিলম্বে তাকে দুদকে তলব করা উচিত এবং সাংবাদিকদের আরো অনুসন্ধানী রিপোর্ট করা উচিত।
তবে নিউজ নারায়ণগঞ্জ এর পক্ষ থেকে যুবায়ের বাবুর করা এমন মন্তব্যে দেয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
ফারুক আহম্মেদ নামে একজন কমেন্ট করে লিখেছেন, এই শালার ফান্দে পড়ে আমি ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি। তাকে শাস্তির আওতায় আনা দরকার।
মোশারফ হোসেন খান লিখেছেন, ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে সিদ্ধিরগঞ্জে পোস্টিং নিয়েছে এটি কোন একটি রেস্টুরেন্টে বসে উনি গল্প করছিলো। যে নিউজ আজকে থেকে তিন-চার মাস আগে মিডিয়াতে এসেছিলো। কিন্তু কেউ তার টিকিটিও ধরতে পারেনি।এসিল্যান্ড অফিসের বস আর ইউনিয়নের বস দুই বস মিলে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে। অল্প দিনে এই দুইজনে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গিয়েছে।
এদিকে দুলাল চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধিরগঞ্জ আমলী আদালতে জালজালিয়াতি মূলক প্রতারণা মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।
দুলাল চন্দ্র দেবনাথের এমন কর্মকান্ডের ব্যাপারে নবনিযুক্ত সিদ্ধিরগঞ্জ এসিল্যান্ড তারেক আজিজ এর সাথে যোগাযোগ করে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি আজকেই যোগদান করেছি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি অবগত হলাম। বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করবো।


























-20260912144331.jpg)






আপনার মতামত লিখুন :