News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কালাম বলয়ে গৃহবিবাদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম কালাম বলয়ে গৃহবিবাদ

নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজনীতিতে এককালে কালাম পরিবারের আর্শীবাদেই বন্দরে বিএনপির অলিখিত নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছিলেন আতাউর রহমান মুকুল। এমপি আবুল কালামের ভাই হিসেবে বন্দরজুড়ে ছিলো তার ব্যাপক প্রভাব। এমনকি আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকালেও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন তিনি। এমপি হিসেবে পেয়েছেন নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমানকে।

তবে আওয়ামী লীগ আমলে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েই ভাগ্য ঘুরে মুকুলের। সেলিম ওসমানের সাথে সখ্যতা গড়ে বেশ ঘনিষ্ট হন তিনি। রাজনীতিতে চলে আসেন সুবিধাজনক অবস্থানে। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে একাধিক মামলার আসামী হলেও গ্রেপ্তার হতে হয়নি তেমন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার ফলে যেমন এমপির সাথে সম্পৃক্ত থাকতে বাধ্য হতেন। আবার কখনও কখনও বাড়তি সুবিধাও নিয়েছেন পরিচিতির খাতিরে। যেই কারণে একই সময়ে অন্যান্য বিএনপির নেতাকর্মীরা চাপে থাকলেও মুকুল নিশ্চিন্তেই বাড়িঘরে থাকতে পেরেছেন। 

এদিকে কালাম পুত্র আশা কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হবার পর তাকেও দেখা গেছে সেলিম ওসমানের সাথে। সেসময় চাচা ভাতিজা উভয়েই সেলিম ওসমানের সাথে সুসম্পর্ক রাখার কারনে বিএনপির একাংশের কাছে ব্যাপক সমালোচিত হতেন। মুকুল আশা একা নয়, এই তালিকায় ছিলো বন্দরের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার, সুলতান আহমেদ, এনায়েত হোসেন, শহরের কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু। তাদের কেউ কেউ বহিষ্কারাদেশ পেলেও প্রত্যেকেই বিএনপিতে ঠিকই পুনর্বাসিত হয়েছেন স্বদর্পে।

নতুন করে এবার ওসমান পরিবারের সাথে সম্পর্ক রাখার রেশ টেনে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে কালাম পরিবার ও মুকুল পরিবারে। যেই বিরোধ এবার দ্বিতীয় প্রজন্মতে এসে ঠেকেছে। একদিকে আবুল কালাম বর্তমানে সংসদ সদস্য ও তার ছেলে আবুল কাউসার আশা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক পদে আছেন। অন্যদিকে আতাউর রহমান মুকুল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এবং তার ছেলে রেজানুর রহমান রূপণ অস্ট্রলিয়া বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক পদে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই দুই পরিবারের মধ্যে নীরব বিরোধ তৈরি হয়। সেসময় কালাম পরিবার চায়নি মুকুল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোক এমন অভিযোগ আছে মুকুল পরিবারের তরফ থেকে। এছাড়া নানান ভাবে বন্দরের বিএনপির নিয়ন্ত্রণ আশার কাছে চলে যাবার পর চাপের মুখে রাখা হয়েছে মুকুলকে এমন অভিযোগও উঠেছে। অন্যদিকে কালাম ও তার ছেলের অনুসারীরা জানিয়েছেন, দলের ভেতর ষড়যন্ত্র করার কারনে কর্মীরাই মুকুলকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মুকুল তার ভাই আবুল কালামের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাননি।

দীর্ঘদিন চাপা এই বিরোধ প্রকাশ্যে জানান দেন মুকুল। শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগারে আয়োজিত আলোচনা সভায় এমপি আবুল কালামকে ইঙ্গিত করে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জবাবে আবুল কাউসার আশা তার বক্তব্যে মুকুলকে উদ্দেশ্য করে মুনাফেক বলে মন্তব্য করেন। আবুল কালাম সরাসরি তার ভাই মুকুলকে নিয়ে কিছু না বললেও আশার বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুকুল পুত্র রূপণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আশাকে একহাত নিয়েছেন তিনি। সেই সাথে এই কার্যক্রমের জবাব দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন ফেসবুকে। 

দুই পরিবারের এমন বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় স্পষ্ট দুটি মেরু তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘এতদিন ধারনা করা হচ্ছিলো দুই ভাইয়ের বিরোধ মিটে এক হয়ে যাবে। কিন্তু এবার আর সেই সুযোগ থাকছে না। বরং উত্তরাধিকার পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে বিরোধ। ফলে দুই পরিবার ফের একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এখন নিজেরাই নিজেদের মত করে রাজনীতি চালিয়ে যাবে। যেই কর্মীরা আগে দুই পরিবারের হয়েই রাজনীতি করতেন, তারা এখন পড়বেন উভয় সংকটে।