News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্দর উপজেলায় মুখোমুখি হতে পারেন চাচা-ভাতিজা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১০:২০ পিএম বন্দর উপজেলায় মুখোমুখি হতে পারেন চাচা-ভাতিজা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাচনে মুখোমুখী হতে পারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও এমপি পুত্র আবুল কাউসার আশা। সম্পর্কে চাচা ভাতিজা এই দুই বিএনপি নেতা দীর্ঘদিন একসাথে এক বলয়ে রাজনীতি করেছেন। ভাতিজার কাউন্সিলর নির্বাচনে জয় এনে দিতে কাজ করেছেন চাচা। আবার চাচার উপজেলা নির্বাচনে সার্বিক সহযোগীতায় মাঠে ছিলেন ভাতিজা। কিন্তু দুই পরিবারের বিরোধ প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হিসেব।

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশাকে অনেকেই ধরে রেখেছিলেন পরবর্তী নাসিক নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী। বাবা এমপি হবার পেছনে বড় পরিশ্রম করেছেন আশা। যোগ্য পুত্র হিসেবে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন নাসিক নির্বাচনেও মাঠে নামার সার্বিক প্রস্তুতি রাখবেন তিনি। তবে নাসিক প্রশাসক হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন খানকে দায়িত্ব দেয়ার পরে ঘুরে গেছে দৃশ্যপট। এই পদে নির্বাচনে আগ্রহী বিএনপির বহু নেতা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। ধরেই নিয়েছেন, সাখাওয়াতই পাবেন মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন।

তবে আবুল কাউসার আশা মনোযোগ বাড়িয়েছেন বন্দরে। পুরো উপজেলা এবং সিটি এলাকার অলিগলিতে কাজ করে বেড়াচ্ছেন। পিতার রাজনৈতিক সচিব দায়িত্বের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতিও করে যাচ্ছেন। পুরো বন্দর বিএনপি এখন আবুল কাউসার আশার নিয়ন্ত্রণে। গুঞ্জন রয়েছে, আগামী মহানগর বিএনপির কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হতে পারেন আবুল কাউসার আশা। ফলে বেশ ভালো সুসময় কাটছে এই নেতার।

অন্যদিকে পারিবারিক বিরোধের কারনে ছিটকে পড়েছেন এমপি কালামের ভাই পরিচয়ে রাজনীতিতে পরিচিত হওয়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। নিজের বলয়, নেতাকর্মী ও মানসম্মান সবই খুইয়েছেন। এখন বাকি কেবল রাজনীতি থেকে অবসরে যাবার। কিন্তু তা না করে এবার ভিড়েছেন সাখাওয়াত হোসেনের সাথে। গুঞ্জন রয়েছে, উপজেলা পরিষদেও নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সবশেষ নির্বাচনে তৃতীয় হওয়ার পরেও ফের নির্বাচনে নামার আকাক্সক্ষা ত্যাগ করেননি।

সম্ভাবনা রয়েছে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে চাচা ভাতিজা হতে পারে মুখোমুখী। তবে প্রবল জনপ্রিয়তা এবং তারুন্যের আইকনে পরিণত হওয়া আবুল কাউসার আশার সামনে তার চাচা আদৌও টিকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আসা মাকসুদ হোসেন যেখানে হারিয়ে দিয়েছে দুই বারের চেয়ারম্যান মুকুলকে। সেখানে পুরো বন্দরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা আবুল কাউসার আশার সামনে জয় পাওয়া অসম্ভব বলেই মনে করছেন সকলে।

রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, মুকুলের এই সময়ে উত্তম হবে নিজেদের পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে কালামের কাছে ফিরে যাওয়া এবং তার বিগত কর্মকান্ডের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসা। অন্যথায় কালাম পরিবার ও তাদের জনপ্রিয়তার সামনে টিকতেই পারবেন না তিনি। নানান সময়ে দল বদল করে আলোচনায় আসতে চাওয়া একজন নেতার জন্য ভালো দিক বয়ে আনে না।