মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় হকার্স মার্কেটে শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অধরা রয়েছে দুই ভাই রাহাত ও বাহার। তারা দুই ভাই। এরই মধ্যে হোসিয়ারী সমিতি মিলনায়তনের সামনে থেকে রাহাতের মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃত সুমন প্রকাশ্যে বলেছেন শুভ হত্যাকান্ডের পর তাকে বাহার ফোন করে বলেছিল ওস্তাদ কাজ তো সাকসেস। এ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলে হত্যার রহস্য আরো বেরিয়ে আসবে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে শুভ হত্যার পর লাশ দাফন নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটেছে। ইসলাম না সনাতন ধর্মে শেষ কৃত্য নিয়ে পরিবার দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে হাইকোর্ট। রায়ের কাগজপত্র পেলেই রোববার লাশ দাফন করবেন বলে জানিয়েছেন শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের ভাই মোহাম্মদ সজীব। হত্যাকান্ডের পর বাবার দাবী ছিল শুভ হিন্দু। কিন্তু মায়ের দাবী ছিল শুভ মুসলমান হয়েছেন। এ দুইজনের কারণে লাশ নিয়ে বিপাকে পড়েছিল পুলিশ। পরে লাশ নারায়ণগঞ্জে লাশবাহী এম্বুলেন্সে রাখার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাইকোর্টে রিটে মামলায় বলা হয়, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিটে জন্মগতভাবে সনাতন ধর্মের অনুসারী শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে শুভর নাম রাখা হয় বিল্লাল। তিনি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন।
শুভ ওরফে বিল্লাল হত্যা নিয়ে বাহার একটি ভিডিও বার্তায় জানান, আমি মিডিয়াতে দেখলাম মাইগ্যা সুমন বলেছে ‘ওস্তাদ কাম ওকে’। উল্টা আমি চিল্লাচিল্লি করছি তোমার আশকারাতে পোলা পাইত ওর লগে এডা করলো কামডা করলো। ওর সাথে শুভ সাথে আমার কি এই সম্পর্ক। আমলাপাড়া যে কোন সমস্যা অন্যকেউকে না পেলেও আমাকে পাইছে।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ইয়াবা সহ শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মোহাম্মদ বিল্লালের লাশ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। লাশের দেহে গুলি ও ছুরিকাঘাতে চিহৃ নিয়ে তদন্তে নামেন পুলিশ ও ডিবি। সিসিটিভি ফুটেজে সূত্রে প্রথমে সিয়াম আহম্মেদ সিজানকে গ্রেপ্তার মাধ্যমে মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন ও তার সহযোগি মো. সোহানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি তদন্ত টিম। এরপর থেকে হত্যার জট খুলতে শুরু করে।
ইতোমধ্যে মাইগ্যা সুমনের স্বীকারোক্তি মিশনপাড়া রামকৃঞ্চ মিশন আশ্রমে দেয়ালের বাগান থেকে অস্ত্র ও হোসিয়ারি সমিতির ফটক থেকে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল উদ্ধার করে ডিবি। এরপর থেকে অনিক, অহিদ, বাহার ও রাহাতের খোঁজে নামে তদন্ত টিম।
৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শুভ দাসকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় সুমন, সিজান ও সোহানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। রিমান্ডে থাকা সুমন হত্যাকান্ডের ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। তার দেওয়া তথ্য মতে ডিবি অভিযান শুরু করে। অভিযানে রামকৃষ্ণ মিশনের সামনের গাছের ঝোপ থেকে একটি সাদা রঙয়ের বাজারে ব্যাগে রিভলভার উদ্ধার করা হয়। শুভকে এ রিভলভার দিয়েই গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল জানিয়েছেন সুমন।
নিহত শুভ দাসের মরদেহে ১০০ পিস ইয়াবা ও ৫টি গুলি খোসা উদ্ধার করেছিলো পুলিশের তদন্তকারী টিম। একই সাথে দেহে একাধিক ছুরিকাঘাতে করা হয়েছে মারা যাবার আগে।
জানা গেছে, আমলাপাড়ায় ২৫টি অধিক মাদকের মামলার আসামী ফাতেমা বেগম ওরফে ফতে বাড়িতে ৩ সেপ্টেম্বর অভিযান চালায় ডিবি। অভিযানে ১ হাজার ৫০০ গ্রাম গাঁজা, পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ফতে, তার ছেলে অনিক ও সুজনকে আসামি করে এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম।
এই অভিযানের পেছনে গলাচিপার মাদক ব্যবসায়ী শুভ দাসকে সন্দেহ করে ফতে’র ছেলে অনিক ও তার অনুসারীরা। এর জের ধরে পরদিন শনিবার রাত আনুমানিক ১টায় চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পিছনে দুর্গামন্দিরের সামনে শুভ দাসকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে। পরে পুলিশ বুকে মাথায় গুলি ও শরীর বিভিন্ন স্থানে চাকুর আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের সূত্রে জানা গেছে, হত্যা ও মাদকের ৭টি মামলার আসামী অনিক ও সুমন নেতৃত্বে শুভ দাসকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেই অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভ’র সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল শুভকে হত্যাকা-ে অংশ নেয়। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করে এবং অন্যান্য সহযোগীরা চাকু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।































-20260912144331.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :