News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ইভানের পর রাজ্জাকের উত্থান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম ইভানের পর রাজ্জাকের উত্থান

নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইর ও আশপাশ এলাকাতে এক সময়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক ছিলেন ইভান। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ইভানকে ইসদাইরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ইভান প্রয়াত সাবেক এমপি নাসিম ওসমানের একমাত্র ছেলে আজমেরী ওসমানের বাহিনীর সদস্য ছিলেন। মটর সাইকেলে ঘুরে বেড়াতেন বিশাল বহর নিয়ে। আজমেরী ওসমানের বহরেও থাকতো সে। আর সেই বদৌলতেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন ইভান। ইসদাইর ও আশপাশ এলাকার বিশাল একটি গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। ধরাকে সরা জ্ঞান করতো। সে কারণেই এলাকার অনেকের কাছেই এক প্রকার আতঙ্কের নাম ছিল ইভান। ইতোপূর্বে অন্তত ডজনখানেকবার গ্রেপ্তার হলেও নিজেকে শুধরাতে পারেনি। বরং একের পর এক অপকর্ম করেছেন। কখনো হামলা, মারধর, ছিনতাই ছিল তার বাহিনীর নিত্যদিনের কর্মকা-।

৫ আগস্টে হাসিনার সঙ্গে আজমেরী ওসমানও দেশ ছাড়েন। কয়েক মাস নিজেকে আড়াল করে রাখে সে। কিন্তু আবারো কয়েক মাস ধরে সেই পুরানো চরিত্রে ফিরে সে। ক’ মাস আগেও ইসদাইরে একই পরিবারের তিনজনকে মারধর করে ইভান। একজনের পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় মামলাও হয়েছিল। শফিকুল ও বাবু নামের এ তিন সহোদরের হাত পায়ের রগ কেটে দেওয়ার জের ধরে ইভনের সঙ্গে বিরোধ ছিল। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে ইসদাইরে ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামের সামনে ইভানকে রাস্তায় পান তারা। মটরসাইকেল থেকে নামিয়ে একের পর এক কুপিয়ে জখম করা হয়। লুটে পড়ে মাটিকে। প্রথমে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ১১টায় মারা যান।

এলাকায় প্রকাশ্যে মারপিট, ছুড়ি হাতে ধাওয়া পালটা ধাওয়া, নেশার আসর, নিজ বাড়িতেই টর্চার সেলে নির্যাতন সহ এমন কোনো অভিযোগ নেই যা তাঁর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর নেই।

ইভানের মৃত্যুর পর এলাকার রাজত্ব নেয় রাজ্জাক। পুলিশেন রেকর্ড অনুযায়ী, রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, দুটি অপহরণ ও দুটি মাদক সহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে তার ছেলে ওয়াসিমের বিরুদ্ধে একটি হত্যা, দুটি অপহরণ, একটি অস্ত্র আইন ও একটি ডাকাতির প্রস্তুতি সহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে। তারা দুইজনই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল এবং তারা সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল।

সবশেষ ফতুল্লায় সন্ত্রাস মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীদের সিনেমা স্টাইলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ১৫ আগস্ট বিকেলে ফতুল্লা ইসদাইর এলাকায় আরবান স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সেই সাথে পাল্টা গুলিতে এক অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ আহত হয়েছে। এসময় একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে র‌্যাব রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করেছে।

চাষাঢ়া থেকে চাষাঢ়া থেকে ইসদাইর বাজার পর্যন্ত সড়কে মাদকের যে হাট বসে সেটার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক ছিলেন রাজ্জাক। এর আগেও মাদক নিয়ে শামীম নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন তিনি। একাধিক হত্যাকা- ছাড়াও গুমের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। রয়েছে বিশাল অস্ত্রধারী বাহিনী। ধরাকে সরা জ্ঞান করা এ রাজ্জাক এলাকার একচ্ছত্র মাদকের অধিপতিও বলা চলে।