সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দুলাল দেবনাথ যার কর্মজীবন থেকে পারিবারিক জীবন সবক্ষেত্রেই বিতর্ক আর অনিয়মে ভরপুর। সহকারী তহসিলদার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি পদোন্নতি পেয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত আছে। সহকারী তহসিলদার হিসেবে সরকারি গেজেট অনুযায়ী ১২তম গ্রেড এ মাসিক বেতন পেয়েছেন সর্বনি¤œ ১১৩০০ থেকে ২৭৩০০ টাকা পর্যন্ত। আর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল ১২৫০০ টাকা থেকে ৩০২৩০টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।
বর্তমান বাজারে এই বেতনে একটি সংসার চালানো কষ্ট সাধ্য তখন দুলাল দেবনাথের পরিবারের সদস্যরা কাটিয়েছেন লাক্সারি লাইফ স্ট্রাইল। করেছেন একাধিক বিয়ে। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই মেয়ে। স্বর্ণালী দেবনাথ ও বন্যা দেবনাথ।
স্বর্ণালী দেবনাথকে প্রথমে শহরের প্রিপ্রাইটি স্কুল, এর আমলাপাড়া আইডিয়াল স্কুল, পরবর্তীতে ২০১৪ সালে মগ্যার্ণ গালর্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা পাস করে ২০১৬ সালে ঢাকার কমার্স কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করে ওই একই বছর ফ্যাশন ডিজাইনিং এ বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে লেখাপড়া করেছেন। অত্যন্ত ধুমধাম করে স্বর্ণালী দেবনাথের বিয়ে দেওয়া হয়েছে নরসিংদীর মাধবদীতে।
ছোট মেয়ে বন্যা দেবনাথ আমলাপাড়া আইডিয়াল, পরে মর্গ্যাণ গালর্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি শেষে ঢাকার মাইলস্টোন কলেজ থেকে এইচএসসি শেষে ২০২০ সালে ব্রাক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। সেখান অধ্যয়ন শেষে পড়ালেখার জন্য আমেরিকাতে পাঠানো হয়। বন্যা দেবনাথ সেখানে আইয়ুস শ্রেষ্ঠ নামে একজন ভারতীয় বংশদূত আমেরিকান নাগরিকের সাথে প্রেম করে বিয়ে করেন।
তাদের দুইজনের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অপরদিকে দুলাল দেবনাথের দ্বিতীয় স্ত্রী পিংকি দেবনাথ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ল কলেজে অধ্যয়নরত রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তবে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। দুলাল দেবনাথের নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে তার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু রহস্যজনক ছিলো বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
তার দুই মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান খুব বেশি নয় বলে জানা গেছে।
এছাড়াও বড় মেয়ে স্বর্ণালী দেবনাথের জন্মদিনে দুলাল দেবনাথ তার মেয়েকে আইফোন গিফট করার একটি ভিডিও দেখতে পাওয়া গেছে।
১২তম গ্রেডে চাকরি করে একজন সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের এমন আলিশান জীবন যাপন স্বাভাবিক অর্থৈই তার উপার্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে দুলাল দেবনাথের নামে বেনামে বিভিন্ন সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে, যে গুলোর সত্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
শুধু ঘুষ বাণিজ্যই নয় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালজালিয়ারিত একটি মামলা নারায়ণগঞ্জ আদালতে চলমান রয়েছে। যেটি বর্তমানে সিআইডির কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে সিআর মামলা নং-২১৩/২০২৬।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই দুলাল দেবনাথ ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল এর হয়ে কাজ করতো। হেলালের অন্যতম ঘনিষ্ঠ যে হেলাল এর জমির ব্যবসা দেখাশোনা করতো সেই আবুল কালাম আজাদ এর সাথে দুলালের ছিল দহরম মহরম সম্পর্ক।
তবে দুলাল দেবনাথের ঘুষের টাকা লেনদেনের জন্য রয়েছে বড় একটি দালাল সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটের প্রধান হলেন মুজিবুর রহমান। এই মুজিবুর রহমানের মাধ্যমেই দুলাল ঘুষের অর্থ আদান প্রদান করে থাকেন।
































আপনার মতামত লিখুন :