আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরেই পাল্টে যায় সাবেক কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সেক্রেটারি ইকবাল হোসেনের আচরণ। রাতারাতি ধরা কে সরা জ্ঞান করে বেপরোয়া আচরণ করতে শুরু করেন তিনি। নিজের ক্ষমতা জাহির আর নিপীড়কের ভুমিকায় আবির্ভুত হয়ে দল থেকে বহিষ্কার হয় ইকবাল। লম্বা বিরতি আর নানান স্থানে ধর্না দিয়ে ক্ষমা পায় সে। কিন্তু দলে ফিরে ফের একই ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছে ইকবাল।
গত বুধবার ফতুল্লার ভুইগড়ে একটি বিবাদপূর্ন জমিতে সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালিয়েছে ইকবাল। ভিডিও কেন ধারন করা হচ্ছে এমন অজুহাত তুলে মারধর শুরু করেন তিনি। সেই সাথে প্রতিপক্ষকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে কোনঠাসা করতে দেখা যায় ইকবালকে। তার লোকজন সাইনবোর্ড তুলে ছুড়ে অন্যত্র ফেলে দিলে ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার ভিডিও ধারন করে এর বিচার চাইতে থাকেন। তবে পুরো সময় জুড়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নীরব ভুমিকায় থাকতে দেখা যায়।
ইকবালের এমন মারমুখী আচরণ এবারই প্রথম নয়। গত ২৩ জুন সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড সচিব মেহেদী হাসানের উপর হামলার অভিযোগ উঠে ইকবাল ও তার অনুয়ারীদের বিরুদ্ধে। থানায় দায়ের করা অভিযোগে ভুক্তভোগী জানায়, গত ১৯ এপ্রিল সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের ভাই তুহিনকে ২নং ওয়ার্ড সচিবের পদ থেকে অপসারণ করে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকেই সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল ও তার অনুসারীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল।
২৩ জুন ইকবাল হোসেনের নির্দেশে মুক্তার, সোলাইমান পলাশ, সাইফুল, নাজমুল, জসিম, টুটুল, জহিরুল, সেলিম, ইয়াসিন, জিসান ও জাহিদ ওরফে মাইচ্ছা জাহিদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রথমে সিটি করপোরেশনের ল্যাম্পপোস্ট মেরামতের কাজে বাধা প্রদান করে। এরপর মেহেদী হাসানের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে ইকবাল হোসেন নাসিকের সচিব মেহেদীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। এসময় মেহেদীর চিৎকারে তার পরিবার ও স্থানীয় আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে পরবর্তীতে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
দুইটি ঘটনার ভিডিও থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। আইনি ভাবে কিংবা দলীয় বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে ৫ আগস্টের পর একটি ঘটনায় দল থেকে বহিস্কার হয়েছিলো ইকবাল। সেসময় কাকুতি মিনতি করে মাফ চেয়ে পদ ফিরে পাবার জন্য নানান স্থানে ধর্না দিতে শুরু করে।
২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় বাস চালকের সাথে তর্কের জের ধরে লোকজন ডেকে এনে আসিয়ান বাস ভাঙচুর করে ইকবাল। মারধর করা হয় বাসের চালক নয়নকে। ড্রাইভারকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক মিনহাজ আমান। এসময় তাকেও মারধর করে ইকবাল। এই ঘটনার পর বিষয়টি আলোচনায় আসলে ইকবালকে বহিস্কার করে বিএনপি।
নিজের এমন বেপরোয়া আচরণের কারনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু দলে ফিরে আবার সেই বেপরোয়া আচরণ শুরু করেছে ইকবাল। যার ভুক্তভোগী হতে শুরু করেন নানান শ্রেণি পেশার মানুষ। ত্রাস হয়ে উঠেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ ছাড়িয়ে ফতুল্লাতেও।
































আপনার মতামত লিখুন :