News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শুভর মাদক স্পট টার্গেট মাইগ্যা সুমনের


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম শুভর মাদক স্পট টার্গেট মাইগ্যা সুমনের

নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম মাদক স্পট হিসেবে চাষাঢ়ার হকার্স মার্কেট। এই স্পট পরিচালনায় ছিলো নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মোহাম্মদ বিল্লাল। নিজস্ব বন্ধুমহল নিয়ে মাদক বিক্রি করতো সে। অন্যদিকে পাশে এলাকা আমলাপাড়ার সরদার বাড়ী এলাকায় মাদকস্পট পরিচালনা ছিলো মোহাম্মদ সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনের। চাচাতো ভাই হিরা সরদার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়া সুবাদে সুমন, তার ভাই সুজন ও অনিক বাহিনী তৎপর ছিলো আলোচিত।

চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটে মাদক স্পট দখল করতে শুভকে হত্যা পরিকল্পনা করেন মাইগ্যা সুমন। হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাদক সম্রাজ্ঞী ফতে’র ছেলে সন্ত্রাসী অনিক ও অহিদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। শুভ হত্যাকারীদের স্বীকারোক্তিতে তথ্য পাওয়া যায়, অল্প সময়ে ব্যবধানে শুভকে হত্যা করা হয়। অনিক ও অহিদ গুলি করে আর বাকিরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়।

শুভের হত্যা পর তার লোকজনকেই মামলা আসামী করার ছক করে মাইগ্যা সুমন। ইতোমধ্যে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় শুভ সহযোগি রাহাত ও বাহারকে হত্যাকান্ডে জড়িত বলে তথ্য দেয়। ডিবি হত্যাকান্ডে শুভকে ৫ রাউন্ড গুলি করার ব্যক্তিদের সনাক্তে কাজ করছে। যার কারণে গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ে অনিক ও অহিদকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

মহানগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতা হোসিয়ারি সমিতির অফিসকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। যার কারণে মাদক ব্যবসা ও অপরাধের পয়েন্ট হিসেবে হোসিয়ারি সমিতিকে ব্যবহার করে সুমন ও অনিক বাহিনী। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে অনিক ছিলেন যুবলীগ নেতা শাহ নিজাম ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী। ওই সময়ে আমলাপাড়া অপরাধ কর্মকান্ডে অনিক ছিলো বেপরোয়া। মা ফতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অনিক ছিলো হাতিয়ার। একই সাথে আমলাপাড়া অপরাধের কান্ডে অনিককে তৎকালীন এমপি দ্বারস্থ হয়েছিলো ভুক্তভোগীরা।

অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হত্যার শিকার শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালকে হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে সাকিব সরকার দিমুন ওরফে ধিমন। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর জেলা ডিবি টিম অভিযান চালিয়ে শুভ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন, মোহাম্মদ সোহান ও সিয়াম আহমেদ সিজানকে গ্রেপ্তার করে এস আই মফিজুল ইসলাম। তদন্তে সিয়াম আহম্মেদ সিজান জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবার বিনিময়ে শুভর সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহানকে হাত করে ডেকে আনা হয়। এরপর অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ৬/৭ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে হামলা চালায়। এ সময় অনিক ও অহিদ গুলি চালায়, আর বাকিরা ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চাষাঢ়া হকার্স মার্কেট থেকে ইয়াবা সহ ছুরিকাঘাত ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শুভ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনা পর থেকে শহর আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত সাকিব ওরফে ধিমন স্বীকারোক্তিতে জানান, হোসিয়ারি সমিতির ফটকের সামনে দাড়িয়ে পরিকল্পনা করা হয় শুভ হত্যাকান্ড। ঘটনার দিন আমাকে ইমনে ফোন করে হোসিয়ারি সমিতিতে ডেকে আনে। অনিক অহিদ জয় ইমন এসে দেখতে পায়। আরো ছোট তিন জন ছিলো, শুনছি একজনের নাম বিশু। হোসিয়ারি ভিতরে চার পাচঁ মিনিট ছিলাম, এর মধ্যে ইমন বের হয়ে যায়। খবর আছে শুভ (বিল্লাল) হোসিয়ারি সমিতির সামনে দেখা গেছে। চলো হকার্স মার্কেটে গিয়ে দেখি শুভ আছেনি। আমলাপাড়া ভিতর গিয়ে হকার্স মার্কেটের সামনে ঘটনাটি ঘটে। হত্যা ঘটনায় কমলা রঙে গেঞ্জি পরিহিত ছিলেন ধিমন। নরসিংদী যাবার সময়ে বাস থেকে ফেলে দিসি।

উল্লেখ্য, ৫ সেপ্টেম্বর শহরের চাষাঢ়ায় ইয়াবা সহ শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মোহাম্মদ বিল্লালের লাশ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। লাশের দেহে গুলি ও ছুরিকাঘাতে চিহৃ নিয়ে তদন্তে নামেন পুলিশ ও ডিবি। সিসিটিভি ফুটেজে সূত্রে প্রথমে সিয়াম আহম্মেদ সিজানকে গ্রেপ্তার মাধ্যমে মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন ও তার সহযোগি মো. সোহানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি তদন্ত টিম। এরপর থেকে হত্যার জট খুলতে শুরু করে।