১৯ বছর ক্ষমতার মসনদে রয়েছে ১৭ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা বিএনপি। যার সুবাদে নারায়ণগঞ্জ অনেক প্রবীন নবীণ সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশন জেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছে। এরপরও মাঠ পর্যায়ে জনগণের থেকে দূরে রয়েছে বিএনপি।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি সহ অঙ্গসংগঠনগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তিক্ততা রয়েছে ক্ষমতানসীন নেতাদের নিয়ে।
এদিকে বিএনপির সরকার গঠনের পর থেকে দলের সাংগঠনিক কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কমে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় কার্যক্রমে এখন আরও ভাটা চলছে। সরকার গঠনের পর রাষ্ট্র বিনির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের নেতারা। সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম চলছে। এতে দলের মাঠ পর্যায়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন নেতাকর্মীরা। সরকার পরিচালনায় এগিয়ে থাকলেও দুর্বল হয়ে পড়ছে দলের সাংগঠনিক কাঠামো।
নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে। মহানগর বিএনপির চার বছরে, দুই বছর বেশি সময় ধরে জেলা বিএনপি একই কমিটি বহাল। দলের মূল চালিকাশক্তি বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের মেয়াদও শেষ হয়েছে অনেক আগে। নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা থাকলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখছেন না নেতাকর্মীরা। ফলে পদপ্রত্যাশী নেতাদের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিটি জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরমধ্যে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আরও তিন মাস সময় নিতে পারবে। এই সময়েও কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেবে কেন্দ্র। যদি আহ্বায়ক কমিটিও ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের কমিটি গঠন করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে দলের গঠনতন্ত্রে। কিন্তু এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা নেই কমিটি গঠনে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন দলটির নেতাকর্মীরা। অনেকে মনে করছেন, পুরোনো কমিটি দিয়ে আর সংগঠন গতিশীল রাখা সম্ভব নয়।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপি একাধিক প্রত্যাশিত নেতারা জানিয়েছেন, চার বছর তিন বছর দুই বছর কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি আসছে না। যার কারণে বিএনপিতে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রুপিং লবিংয়ের কারণে দল ক্ষমতা থেকেও দূর্বল রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে দলের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাদের নেতৃত্বে আগামীতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নতুন বিএনপি কমিটি ঘোষনার প্রত্যাশা করি। বিগত সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন যারা বিএনপি অবদান রেখেছেন তাদের মূল্যায়ন প্রত্যাশা রয়েছে নেতাদের মধ্যে।
নারায়ণগঞ্জের চার জন বিএনপির এমপি, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি নেতারা ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের চেয়ার নিয়ন্ত্রণের কারণে বিএনপি নেতা-কর্মীরা গ্রপিংয়ে রয়েছে। এমপি প্রশাসক চেয়ারম্যানদের পছন্দের নেতারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে অন্য দিকে যারা সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছে তারা অবহেলিত।

























-20260912144331.jpg)







আপনার মতামত লিখুন :