News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

এনসিপির ১০ পার্সেন্টের মাস্টারমাইন্ড


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম এনসিপির ১০ পার্সেন্টের মাস্টারমাইন্ড

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বিভিন্ন সেক্টরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এনসিপি। এ দলের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হলেও তার দলের কয়েকজন নেতার বিতর্কিত কর্মকা-ে ভালো কাজগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ১০ পার্সেন্ট কমিশনের যে খবর এসেছে তার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন জেলার সভাপতি যুবাইর আহমেদ সরদার। তার মদদেই বিভিন্ন ইউনিট কমিটি বিতর্কিত কাজে লিপ্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিতর্কে ফতুল্লা থানা কমিটি। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে এমন একজনকে যাকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে ব্যাপক।

যুবাইর এর প্রধান হয়ে কাজ করছেন তারিকুল। তাকে দেওয়া হয়েছে ফতুল্লার দায়িত্ব। তিনি মূলত বিভিন্ন অর্থনৈতিক সেক্টর দেখভাল করেন। সে ও তাঁর সহযোগিরা মিলেই বিভিন্ন হাট ঘাটের দরপত্র ক্রয় করেন। পরে বসেন সমঝোতায়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সদর উপজেলায় সবশেষ কোরবানীর জন্য ১৩টি হাটের সবগুলোর বিপরীতে দরপত্র ক্রয় করেছিলেন এনসিপির নেতারা। পরে তাদের মধ্যে সমঝোতা হওয়াতে একের বেশী কেউ দরপত্র জমা করেনি। এর মধ্যে আলীগঞ্জ হাট নিয়ে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে ১০ পার্সেন্ট কমিশনের চুক্তি হয়। এছাড়া গোগনগর বাড়িরটেক, তালতলা, সাইনবোর্ড ও ভূইগড় সোনালী সংসদের হাটেও এনসিপির কতিপয় নেতাদের সঙ্গে বিএনপির ১০ থেকে ১২ পার্সেন্ট কমিশনে রফাদফা হয়। ফলে এসব হাটে এনসিপি কোন বিশৃঙ্খলা করেনি। এছাড়া কাশীপুর, বক্তাবলী ও মার্কাজ মসজিদের সামনের হাটে বিএনপি নেতারা টাকা লগ্নি করে পার্টনার হয়েছিল।

রোজার ঈদের আগে ফতুল্লা ডিআইটি মাঠ সহ বিভিন্ন সেক্টরে ইজারা সম্পন্ন হয়। ইজারার আগে ফতুল্লা মাঠের নজর ছিল এনসিপি নেতাদের। তরিকুল নামের এনসিপি নেতা দরপত্র ক্রয় করেন। তিনি আবার বক্তাবলী খেয়াঘাটের দরপত্রও কিনেছিলেন। ডিআইটি মাঠের দরপত্র ক্রয়ের পর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাদের তিন দফায় বৈঠক হয়। শুরুতে এনসিপি নেতা তরিকুল বিএনপি নেতাদের কাছে ৩০ ভাগ কমিশন চায়। পরে দ্বিতীয় দফায় ২০ ভাগে নেমে আসে। তখন এনসিপির সঙ্গে জামায়াতও যুক্ত হয়। এ নিয়ে রাতভর জল্পনা শেষে দরপত্র দাখিলের দিন সকাল ১১টায় এক বৈঠকে এনসিপি ১০ ভাগে রাজী হয়। তখন এনসিপি নেতারা একজন জনপ্রতিনিধির নামেও কমিশন চেয়েছিল। শেষতক সমঝোতায় জামায়াত ও এনসিপি নেতারা দরপত্র দাখিল করেনি। সে কারণে বিএনপি নেতা পেয়ে যান মাঠের ইজারা।

২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়া বক্তাবলীর রাজাপুর খেয়াঘাটের দরপত্র নিয়ে সমঝোতা না হওয়াতে বিএনপির পাশাপাশি এনসিপি, জামায়াত নেতারা দরপত্র জমা দিতে গেলে মারামারির ঘটনা ঘটে।

বক্তাবলী ঘাট নিয়েও একই পন্থায় আলোচনা শুরু হয় তিন চারদিন ধরে। এতে বক্তাবলীর বিতর্কিত রশিদ মেম্বার সহ আরো কয়েকজন সমঝোতায় রাজী না হলেও থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।