News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ত্র উদ্ধার না হওয়াতে শঙ্কা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম অস্ত্র উদ্ধার না হওয়াতে শঙ্কা

নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতি জোরদার করা হলেও এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৩৬টি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধারের আশা করছে প্রশাসন। তবে একসঙ্গে এতগুলো অস্ত্রের হদিস না মেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, থানাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ সামগ্রিক বিষয় পরিদর্শন করা হয়েছে। লুট হওয়া ৩৬টি অস্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

গত ১২ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজার বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি তাক থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পিস্তলটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হয়েছিল।

এর আগে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়েও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। মে মাসে আড়াইহাজারে একটি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এপ্রিলেও সিদ্ধিরগঞ্জে লুট হওয়া একটি পিস্তল ও শটগানের একটি গুলি উদ্ধার করেছিল র‍্যাব-১১।

এতে স্পষ্ট হয়, লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ দীর্ঘ সময় পরও বিভিন্ন স্থানে রয়ে গেছে। কোনোটি পরিত্যক্ত অবস্থায়, আবার কোনোটি এমন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচল রয়েছে। ফলে বাকি অস্ত্রগুলোর অবস্থান ও সেগুলো কার হাতে রয়েছে এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাতীয় পর্যায়েও নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র লুট হয়েছিল। এসব অস্ত্রের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে জেলার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে। শিল্পাঞ্চল, ঘনবসতি, নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল ও শহরকেন্দ্রিক ব্যস্ত এলাকার সমন্বয়ে গঠিত এ জেলায় নির্বাচনের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল থাকে। ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার, মিছিল, সভা এবং ভোটারদের যাতায়াত ঘিরে নিরাপত্তার বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

তবে শুধু লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হলেই নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বিষয়টি এমন নয়। অবৈধ অস্ত্র, স্থানীয় অপরাধীচক্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক বিরোধÑএসব বিষয়ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি চিহ্নিত অপরাধীদের ওপর নজরদারি, অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং সম্ভাব্য সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোও জরুরি।

এদিকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও হত্যাকা-, ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের তথ্য উঠে এসেছে। বছরের প্রথম কয়েক মাসে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের পাশাপাশি অস্ত্রসংক্রান্ত মামলাও হয়েছে বলে জেলা পুলিশের হিসাব উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যে ৩৬টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, সেগুলো কোথায় এবং কী অবস্থায় আছে। প্রশাসন নির্বাচনের আগেই উদ্ধারের আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব অগ্রগতি কতটা, সেটিই দেখার বিষয়।

নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের আস্থা তৈরির জন্য শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, নিয়মিতভাবে অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি জানানোও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, প্রার্থীদের প্রচারণাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা এবং ভোটের দিন কেন্দ্রের আশপাশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

নারায়ণগঞ্জে লুট হওয়া ৩৬টি অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি তাই শুধু পুলিশের একটি অভিযান নয়, এটি নির্বাচনের সামগ্রিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় উদ্বেগ কমবে। আর যদি কিছু অস্ত্র অজ্ঞাত অবস্থায় থেকেই যায়, সেক্ষেত্রে সেগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার ঠেকাতে বাড়তি নজরদারি ও কার্যকর প্রস্তুতিই হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় পরীক্ষা।