গত ২৩ মাসে ১২টি মামলায় আসামী হয়ে ১৩ মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন আওয়ামীলীগের নেত্রী সাবেক সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালে তিনবার সিটি মেয়র হয়ে দায়িত্ব পালন করে আলোচিত ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এক পদ পেলেও পরবর্তিতে পদ পাননি তিনি। ওসমান পরিবারের সাথে দ্বন্দ্বে আইভী ছিলেন এক আওয়ামী লীগের শক্ত গ্রুপ। চারবার মেয়র নির্বাচনে তিন বার দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আইভী। এরপরও তিনটি নির্বাচনে ওসমান পরিবারের বিরোধী অবস্থানে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
ছাত্র-জনতা আন্দোলনে হতাহত ঘটনার পরপর ১২টি মামলায় আসামী হয়েছেন আইভী। জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ে একমাত্র নেত্রী তিনি তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করে ছিলেন চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর থেকে। অন্তর্বতী সরকার আমলে নাসিকের মেয়র হিসেবে একাধিক সময়ে তিনি অফিস করেছেন। পরবর্তিতে অন্তবর্তী সরকার নাসিক সহ সব সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হলে আইভী ১৯ আগষ্ট থেকে ছিটকে পড়েন। প্রায় ৯ মাস বাবা বাড়িতে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার হননি। গত বছর ১০ মে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি ১৩ মাস কারাগারে ছিলেন। রাজনীতি জীবনে তার প্রথম কারাগারে থাকা অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজনীতিতে ফেরাতে চান সমর্থকরা।
আইভীর অনুসারীরা বলছেন, ছাত্র-জনতা আন্দোলনে একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত না হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন আইভী। শহর বন্দর সিদ্ধিরগঞ্জ সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে আইভীর বিকল্প কেউ নেই। আওয়ামীলীগের নেত্রী হওয়ার কারণে আইভীকে ৩৯১ দিন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি থাকতে হয়েছে। গত ৪ জুন উচ্চ আদালতে জামিন পেয়ে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন।
জামিনে থাকার প্রায় ৫৫ দিন পর ২৮ জুলাই পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা একটি মামলায় আদালতে স্ব-শরীরে হাজিরা দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী।
তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় নারায়ণগঞ্জে হত্যা, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আর আজ আমিই অপরাধী! যাই হোক, এর বিচার আল্লাহ আছেন, আমার নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন, তারা দেখবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে দলীয় কর্মকান্ডে সহসা দেখা যায়নি আইভী। এমনকি তাকে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ দেয়া হলেও ২০২২ সালের অক্টোবরে সম্মেলনে সেটাও ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। যার কারণে সম্প্রীতি রিফান্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আইভীকে দেখা যাবে এটা গুজব। শুধু নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন আইভী। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছেও দলের চেয়ে মেয়র হিসেবে গণ্য ছিলো আইভী।

























-20260912144331.jpg)







আপনার মতামত লিখুন :