নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সদর-বন্দর আসনের চারবারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং তার ছেলে রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশাকে ধরাশায়ী করতে মহা পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে প্রতিপক্ষ গ্রুপ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবা আবুল কালামকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার নেপথ্য নায়ক ছিলেন ছেলে আবুল কাউসার আশা। শুধু মনোনয়নই নয় বাবাকে বিজয়ী করে জাতীয় সংসদে চতুর্থ বারের জন্য পাঠিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
১৯ বছর এমপিত্ব থাকতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম। ৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালে তিনবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল কালাম দলের টিকেট পাননি ঐক্যজোটের প্রার্থী কারণে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন আবুল কালাম। দেড় মাস প্রত্যাশিতদের নিয়ে মাঠ সরগরম করে চূড়ান্ত তালিকায় নিজেকে মনোনীত করান দলের। এরপর থেকে তাকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মহানগর ও বন্দর থানা-উপজেলা বিএনপি শীর্ষ নেতারা কৌশল অবলম্বন করে। এসব কৌশলকে উড়িয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বাবা আবুল কালামের গলায় বিজয়ের মালা তুলে দেন ছেলে আবুল কাউসার আশা। এই থেকে বাবা-ছেলে রাজনীতিতে আবারো সক্রিয়তা মানতে পারেন বিএনপির প্রতিপক্ষরা।
আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব পদে তার ছেলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশাকে নিয়োগ দেন। এতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি ও বন্দর থানা-উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি করে। এই পদে অনেক নেতারা আলোচনা থাকলেও বন্দরের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি রোধে ছেলেকে ক্ষমতা দেন বাবা আবুল কালাম। তিনি বন্দরবাসী উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমাকে সংসদ অধিবেশন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সময় দিতে সেই সময়ে আমার ছেলে আপনাদের চাহিদা পূরণ করে দিবেন।
এমপি আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা, মেয়ে সামছুন নূর বাধঁন, আশা’র স্ত্রী ও বিশস্ত দলের নিস্ক্রিয় নেতারা স্কুল এন্ড কলেজের এডহক/গভনিংবডি কমিটির সভাপতি সহ কমিটিতে ঠাঁই নিয়েছে। যার কারণে মহানগর ও বন্দরের বিএনপি নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল এন্ড কলেজে কমিটিতে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও ইচ্ছা প্রকাশ করলেও এমপি তার বিশ^স্তদের দায়িত্ব দেয়। এনিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন বঞ্চিত নেতারা।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে টেন্ডারবাজি ও চাহিদা মেটাতে বিএনপি নেতাদের প্রশয় দিচ্ছে না বাবা-ছেলে। যার কারণে এমপি ও তার রাজনৈতিক সচিবের বিরুদ্ধে বিরোধীতা করে যাচ্ছে কেন্দ্র ও স্থানীয় পর্যায়ে। নেতাদের চাহিদা মিটাতে গিয়ে এমপি আবুল কালাম কয়েকবার হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি এও বলেছেন, ১৯ বছর পর দল আমাকে জনগণ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। আগে জনগণের চাহিদা পূরণে কাজ করবো তারপর নেতাকর্মীদের চাহিদা পূরণে চেষ্টা করবো। সরকার থেকে প্রাপ্তগুলো নেতাদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে, কেউ না পেয়ে থাকলে পরের ধাপ পাবে।
এমপি আবুল কালাম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সভাপতি। তাকে বাদ দিয়ে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আবুল কালামকে বাদ দিয়ে তার ছেলে আবুল কাউসার আশা ও তার ভাই আতাউর রহমান মুকুলকে যুগ্ম আহবায়ক পদ দেয়া হয়। এতে মহানগর বিএনপিতে দ্বি-খন্ডিত হয়ে পড়ে পরদিনই। আশা, মুকুল, সেন্টু দের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা আলাদা প্লাটফর্মে মহানগর বিএনপি বিদ্রোহী গ্রুপ চার বছর যাবৎ সক্রিয় ছিলেন।
আবুল কালাম শুধু বাদ দেয়া হয়নি তাকে অসুস্থ ও নিস্ক্রিয় নেতা হিসেবে কেন্দ্রে প্রচারণা করা হয়। যার কারণে সাড়ে তিন বছর মহানগর বিএনপি অনুষ্ঠানে আবুল কালামের দেখা মিলেনি। বিদ্রোহী গ্রুপের একাধিক অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গেলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবার পর আবুল কালাম এখন বার বার দেখা গেছে। এমনকি ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে বন্দরে মহানগর বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভায় আবুল কালামের পাশে আহবায়ক ও সদস্য সচিবদের দেখা গেছে।
এদিকে দলের মনোনয়ন পেলেও আবুল কালাম পরাজিত করাতে মহানগর ও বন্দরের শীর্ষ নেতারা মহা পরিকল্পনা একেঁ ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বিদের প্রার্থী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে বিএনপি নেতারা আবুল কালামের ভোট কর্তন করা হয়। অনেক নেতারা আবুল কালামের ভোট চাইতেও দেখা যায়নি। এখন আবুল কালামের কাছে বার বার অবমূল্যায়ন কথা বলে মহানগর কমিটিতে ঠাঁই নেয়া প্রতিযোগিতা মেতেছে।
এমপি আবুল কালামের পাশে এখনো সহসা দেখা যাচ্ছে মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটি ও বন্দরের একাধিক শীর্ষ নেতাদের। তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি নামে সুবিধাভোগী নেতা হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে এমপি আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা নাম তোড়জোড়ে শোনা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাবা আবুল কালামকে জয়ী করার কর্তৃত্ব ছেলে আবুল কাউসার আশাকে দিয়েছে কেন্দ্র ও স্থানীয় পর্যায়ে নেতারা। ছাত্রদল স্বেচ্ছাসেবকদল থেকে মহানগর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক পর যুগ্ম আহবায়ক পদে দায়িত্ব পালনে প্রশংসিত হয়েছেন আশা। আবুল কালামকে মহানগর বিএনপিতে সভাপতি পদ থেকে বাদ দেয়ায় ছেলেকে সাধারণ সম্পাদক পদ দিয়ে কেন্দ্রে ফের জালাল হাজীর অবদান ধরে রাখতে চান। নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।
এবার আবুল কাউসার আশাকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে উড়িয়ে দিতে মাঠে নেমেছেন তারই চাচা আতাউর রহমান মুকুল। এক সময় আবুল কালামের হাত ধরে বন্দর থানা বিএনপি একাধিকবার সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন মুকুল। বিগত সময়ে সেলিম ওসমানের আস্থাভাজন হওয়ায় আবুল কালামের বিরোধীতায় ছিলেন আশা। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রথম মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদকে নিয়ে বন্দরে জনসভা করেন মুকুল। ওই সময়ে আবুল কালাম নিয়ে নানা মন্তব্যে সমালোচিত হন।
উপরোক্ত বিষয় নিয়ে আবুল কালাম এমপি ও তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা বিরুদ্ধে কেন্দ্রে জানিয়ে আগামী এমপি ও মহানগর বিএনপি কমিটি থেকে বাদ দেয়ায় তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক প্রতিপক্ষ গ্রুপ।

































-20260912144331.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :