সাংবাদিককে মারধর করে বহিস্কার হন ইকবাল হোসেন। পরে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হলেও থেমে থাকেনি তিনি। জবর দখল সহ নানা অভিযোগ আসছে তাঁর বিরুদ্ধে। একের পর এক অভিযোগের কারণে বিব্রত বিএনপি। সবশেষ ইকবালের হাতে মারধরের শিকার হন দম্পতি মো. কাশেম মোল্লা ও তার স্ত্রী কহিনূর আক্তার পাপিয়া। ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফতুল্লা এলাকায় ইকবাল ও তার সহযোগীরা এমন কান্ড ঘটিয়েছে। ওই ঘটনায় একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন এক সময়ে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের অনুসারী ছিলেন। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষ নেন।
ইকবাল হোসেনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব মো. মেহেদী হাসান চলতি বছরের ২৬ জুন রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন রাতে মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ও তার নির্দেশে মুক্তার, সোলাইমান পলাশ, সাইফুল, নাজমুল, জসিম, টুটুল, জহিরুল, সেলিম, ইয়াসিন, জিসান, জাহিদ ওরফে মাইচ্ছা জাহিদ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সিটি করপোরেশনের ল্যাম্পপোস্ট মেরামতের কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মেহেদী হাসানের বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে গালাগাল করেন এবং জোরপূর্বক তার বাসায় প্রবেশ করেন। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মেহেদী হাসানের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
চলতি বছরের ৪ জুন ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন চৌরাঙ্গি গ্রুপের স্বত্বাধিকারী কাজী আব্দুস সাত্তার।
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক মিনহাজ আমানকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ইকবাল হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। পরে জাতীয় নির্বাচনের সময় ওই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। আসিয়ান পরিবহনের একটি বাসে চালকের সাথে কথা কাটাকাটি হয় ইকবালের। পরবর্তীতে বাসটি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় আসলে ইকবাল ও তার ক্যাডার বাহিনী বাস চালককে মারধর ও বাসে ভাংচুর চালায়। এসময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একজন সাংবাদিক মিনহাজ আমান বাস ভাঙার প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন ইকবালের অনুসারীরা।
সবশেষ ১৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হামলার শিকার দম্পতি ফতুল্লার ভূইগড় মোজাস্থ মোট ৫১ শতাংশ একটি জমির মধ্যকার ৪শতাংশ জমি ক্রয় করে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে খাজনাসহ যাবতীয় খরচ বহনের মাধ্যমে দখলকৃত অবস্থায় রেখেছেন। ওই জমিতে দীর্ঘ সময় টিনশেড বাড়ি নির্মাণ থাকলেও বিল্ডিং ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে গতবছর টিনের বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে জমিটি ফাঁকা অবস্থায় পড়ে ছিল। আর ফাঁকা থাকার সুযোগে সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের হয়রানির লক্ষ্যে অভিযুক্ত ইকবাল ও তার সহযোগীরা রাতের আধারে ভুয়া এবং মিথ্যা মালিকানা দাবির একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন। জোরপূর্বক সাইনবোর্ড স্থাপনের পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার বিচারের ব্যবস্থা করা হলেও অভিযুক্তরা রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে সমাধানে না এসে বেদখল রাখেন। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে নিজেদের জমি রক্ষার্থে ভুক্তভোগীরা আদালতে ১৪৫ ধরায় পিটিশন মামলা দায়ের করলে ওই মামলার তদন্তের লক্ষ্যে আদালতের নির্দেশনায় বাদী-বিবাদীর উপস্থিতিতে তফসিল অসিসের কর্মকর্তারা ১৬ সেপ্টেম্বর জমি পরিদর্শনে যান। তফসিল অফিসের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনকালে অভিযুক্ত ইকবাল ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীদের বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেন।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।

























-20260912144331.jpg)







আপনার মতামত লিখুন :