সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুল ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ভাইরাল হয়। এরপর লাথি মারা ওই বখাটে ছেলেটিকে ক্ষমা চেয়ে আরো একটি ভিডিও পোস্ট করে কাঁচপুর ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলতে শোনা গেছে। সেই সাথে উত্ত্যক্তের শিকার হওয়া মেয়েটির স্কুল থেকে তাকে টিসি দেওয়ার খবর প্রচারিত হয়।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর ছেলেটিকে রংপুর থেকে আটক করে রংপুর পুলিশ। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না করায় আটককৃত ওই বখাটে ছেলেকে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে আগামী ৬ মাস কাউন্সিলিং এর মাধ্যমের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার শর্তে পরিবারের জিম্মা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেই সাথে নিশ্চিত করা হয় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হয়নি। ক্লাশ চলাকালীন সময় তারা ওই স্থানে থাকায় তাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, ওই ছাত্রীকে কোনো টিসি দেওয়া হয়নি। ক্লাস চলাকালীন সময় তারা স্কুল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে বিপদজ্জনক একটি স্থানে যাওয়াতে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটায় সেজন্য তাদের পরিবারকে একটি সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বিষয়টি এসে যাচাই বাছাই করে গেছেন। আমরা স্কুলের পক্ষ থেকে তাদেরকে শুধুমাত্র সতর্কতা মূলক চিঠি দিয়েছি টিসি না।
এদিকে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী এখনো স্কুলের আসেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আজকেও তারা ক্লাসে এসেছিলো। তবে বিষয়টি নিয়ে মিডিয়াতে নিয়ে খুব বেশি চর্চা হওয়ায় ওই দুই শিক্ষার্থী সহ তাদের পরিবারের সদস্যরাও খুব বিব্রত।
উল্লেখ, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কাঁচপুর ইউনিয়নের একটি এলাকার বাসিন্দা এবং বাবা পেশায় পোশাক কারখানার শ্রমিক। অভিযুক্ত সাড়ে ১১ বছর বয়সী ছেলে কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার ভাড়াটে। তার বাবা পেশায় রিকশাচালক ও মা পোশাক কারখানার শ্রমিক।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছে। এ সময় একটি ছেলে পেছন থেকে এক স্কুলছাত্রীকে লাথি মারে। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে পেছন থেকে তাকে আবার লাথি মারা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ের পাশে হাঁটতে যায়। তখন অভিযুক্ত ছেলে পেছন থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটিকে পরপর দুইবার লাথি মারে। ছেলেটির সঙ্গে থাকা কেউ একজন সেটি মুঠোফোনে ভিডিও করে রাখে। বৃহস্পতিবার তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযুক্ত ছেলেটিকে সালিসে কান ধরে ওঠবস করানোর আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ছেলেটিকে বলতে শোনা যায়, ‘একটি মেয়েকে আমি লাথি মেরেছি, সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সে জন্য আমি মাফ চাচ্ছি। এই ভুল আমার দ্বারা আর হবে না। আমি কাঁচপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’




































আপনার মতামত লিখুন :