প্রি-পেইড মিটারের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, এক সময় কাউয়া কাদের আবোল তাবোল বক্তব্য রেখে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। এখন দেশের বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলছেন, গ্রামে নাকি বিদ্যুৎ সংকট নেই। আবার তিনি বলছেন দেশের বিদ্যুতের রেট নাকি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সস্তা। তিনি মানুষকে মিথ্যা কথা বলছেন। এই ধরনের কথা বলার জন্য যদি কাদেরকে কাউয়া কাদের বলা হয়ে থাকে তাহলে তাকে যদি কাউয়া টুকু বলে কারো আপত্তি থাকবে এখানে ? আন্দোলনরতরা প্রি-পেইড মিটার বাতিল দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ দাবী করে বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে যে ধরনের তেলেসমাতি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী আপনি এগুলি দেখুন। প্রি-পেইড মিটারের খারাপ দিকগুলি উপলব্ধি করে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে প্রি-পেইড মিটার বাতিল করুন।
মঙ্গলবার বেলা এগারোটায় শহরের চাষাঢ়াস্থ নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম’ এর প্রি-পেইড মিটারের বিরুদ্ধে গণ-মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের উপদেষ্টা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, হাজী রুহুল আমিন, এস এম সাজিম আহমেদ, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম জাগু, চাষাঢ়া পঞ্চায়েতের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ নুরুল হুদা, মিশনপাড়া পঞ্চায়েতের যুগ্ম মহাসচিব জাহিদ আহাম্মেদ, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদোর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমন প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে তারা তিন দফা দাবী জানান। এগুলি হচ্ছে, এক: প্রি-পেইড মিটারের সমস্ত কার্যক্রম বাতিল করতে হবে। না জানিয়ে যাদের প্রি-পেইড মিটার লাগানো হয়েছে, তাদের পূর্বের ডিজিটাল মিটার ফেরত দিতে হবে।
দুই: গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিদ্যুত বিল বাতিল করতে হবে। স্লাবের নামে তিনগুন বিল নেয়ার কৌশল বাতিল এবং ৫০০ ইউনিটের নিচে সকল স্লাব বাতিল করতে হবে। মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ বাতিল করতে হবে।
তিন : জ্বালানী ও বিদ্যুৎ মন্ত্রীর মিথ্যাচার বন্ধ করতে হবে।
সমাবেশে সংগঠনের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই কিসের অগ্রিম বিল ? দেশের এখনো এত খারাপ অবস্থা হয়নি যে অগ্রিম বিল নিতে হবে। প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের জন্য বাসা বাড়িতে যাওয়া যাবেনা। মিটার স্থাপনকারীরা আমাদের ভাই। আমরা আপনাদের সাথে দুর্ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু কেউ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করতে আসলে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। প্রি-পেইড মিটার স্থাপন থেকে ডিপিডিসি ফেরত না আসলে তাদের বিরুদ্ধে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। আমাদের জেল জুলুমের মুখে পড়তে হতে পারে। মামলা হতে পারে। কিন্তু জেলে গেলেও আমরা প্রি-পেইড মিটার লাগাতে দেবো না।
সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, বিদ্যুতের প্রি পেইড মিটার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মাফিয়াদের একটি প্রকল্প। তখন গণপ্রতিরোধের কারণে ব্যবহার করতে পারেনি। সেসব মিটার ১৭ বছর পর বিএনপির মত জনপ্রিয় সরকারকে বিতর্কিত করতে আমলাদের মধ্যে ঘাঁপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্টদের লেজুরবৃত্তি করা লোকজন ইস্যু তৈরি করাচ্ছে।
সমাবেশ শেষে একটি গণ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আবার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে সংগঠনটি ধারাবাহিক আন্দোলন করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল ১২ আগষ্ট থেকে ২৪ আগষ্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও গণকমিটি গঠন। ২৫ আগষ্ট সোমবার নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে গণ-অবস্থান কর্মসূচী। ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিদ্যুৎ ভবনের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচী।






































আপনার মতামত লিখুন :