News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্দরে অস্ত্র সহ সিফাত বাহিনীর প্রধান সহ ১১ জন পাকড়াও


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম বন্দরে অস্ত্র সহ সিফাত বাহিনীর প্রধান সহ ১১ জন পাকড়াও

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রিকশা গ্যারেজ মালিক ও ইসলামী যুব আন্দোলনের সহ সভাপতি জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে সিফাত বাহিনীর প্রধান সিফাত সহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সহ বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্র।

২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় বন্দরের সালেহনগর এলাকাতে বুলবুলকে হত্যার পর রাতেই পুলিশ বন্দরে অভিযান শুরু করে। অভিযানে বন্দরে পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শেখ সিফাত (৩২) সহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময়ে সিফাতের লোকজন পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

সিফাত ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলো জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মান (২৯), মাহবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ (৩২), রিয়াদ (৩০), মো. সিয়াম (২৫), মোসা. মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও জিসান ওরফে বিজয় (২৬)। সবার বাড়ি বন্দর থানা এলাকায়। সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুম্মানের বিরুদ্ধে ১৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অভিযানে ১টি ছ্যান দা, ২টি সুইচ গিয়ার চাকু, ১টি স্টিলের চাপাতি, ১টি লোহার পাইপ, ১টি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত ছুরি, ১টি ওয়াকিটকি ও ১৪টি এসএস লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জাহিদ আল আমিন বুলবুল ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করায় স্থানীয় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। এর জেরে ২০২৪ সালের ২২ জুলাই রাতে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকায় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা চালিয়ে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল লুট করে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিরা বুলবুলকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। ২০ আগস্ট  বন্দরের সালেহ নগর এলাকায় তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল তার গতিরোধ করে। ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রামদা, চাপাতি ও সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায় তারা।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ২১ আগস্ট বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী যে কোনো অপরাধ দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। এই ধরনের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে একটি শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।