রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের করুণ সময়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় থাকার সকল চেষ্টা করেছেন। একই নেতাকে বার বার শীর্ষ পদে দায়িত্ব দিলেও সরকার বিরোধী আন্দোলনে প্রশংসায় ছিলেন তিনি। এবার দলের মহাসচিব পদ ছেড়ে হতে যাচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার চেয়ার রাষ্ট্রপতি পদে। যার কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছে রুহুল কবির রিজভী। তিনিও দলের পক্ষে সরকার বিরোধী আন্দোলন রাজপথে সক্রিয় নেতা।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নজরে রাখতেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নজরে ছিলো নারায়ণগঞ্জের আলোচিত নেতারা। এখন থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী অধিনে চলতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। আগামী ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপির সম্মেলন হতে যাচ্ছে। যার কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনে নতুন মোড় সৃষ্টি হল।
জানা গেছে, আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে মিছিল করে গেছেন রুহুল কবির রিজভী। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে নেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগও রয়েছে তার। একই সাথে জেলা যুবদল সহ অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সাথে রিজভী সব সময় যোগাযোগ বহাল রয়েছে।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদেও রিজভীকে দেখা যাবে। যার কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা কার্যালয়ে তোড়জোড় শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ বর্তমান সাবেক নেতারা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও উপজেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র তোড়জোড় ও তৎপরতা চলছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলের বিভিন্ন স্তরের পদ পেতে এবং নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে স্থানীয় বিভিন্ন গ্রুপ ও উপদলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত বছর ২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আংশিক আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর এক সপ্তাহে ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপির সকল ইউনিট কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে কমিটি করার নির্দেশ দেন দয়েছেন কেন্দ্র। নির্দেশনায় ৭ দিনের মধ্যে ৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ৩১ সদস্যে উন্নতি করতে বলা হয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ্য করেন, ক) নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে জেলা বিএনপি'র আহবায়ক মামুন মাহমুদ, ১নং যুগ্ম আহবায়ক মুস্তাফিজুর রহমান দীপু ভূঁইয়া এবং যুগগ্ম আহবায়ক মাশেকুল ইসলাম রাজীব এর যৌথ স্বাক্ষর থাকতে হবে। খ) নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি'র ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক আহবায়ক কমিটিকে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটিতে উন্নীত করে একটি লিখিত তালিকা আগামী ৭ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দিতে হবে।
গ) আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জেলাধীন সকল স্তরের ইউনিট সমূহে সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন করে জেলা বিএনপি'র সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত করতে হবে। চিঠিতে জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সভাপতি গিয়াসউদ্দিনের কোন সাইনিং পাওয়ার রাখা হয়নি। যদিও তিনি আহবায়ক কমিটির ৫ নাম্বার সদস্য।
এই জেলা বিএনপির আহবায়ক বর্তমানে জেলা পরিষদের প্রশাসক, যুগ্ম আহবায়ক একজন এমপি ও আরেক জন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
মেয়াদোর্ত্তীণ কমিটিতে চলমান রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে এখন ৩০ এর ঘরে চলমান রয়েছে। একাধিক গ্রুপিংয়ে কারণে মহানগর বিএনপি দূর্বল হয়ে রয়েছে। মহানগর বিএনপির আহবায়ক বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
এদিকে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি আগামী অক্টোবরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিলের আগেই এমন কমিটি হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। মহানগর বিএনপি কমিটি গঠনে কেন্দ্রীয় বিএনপির এক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের তৎপরতায় রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্খিত ভোট দলীয় প্রার্থীকে দিতে ব্যর্থতায় নতুন কমিটিতে আসছে পুরাতন নেতারাই জানা গেছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে নির্যাতিত, কারাবন্দি হওয়ার মূল্যায়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লম্বা তালিকা রয়েছে। যার ফলে আগামীতে ক্লিন ইমেজে শক্ত অবস্থানকারী নেতাদের মহানগরের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্তে রয়েছে বিএনপি।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তিনি দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হবেন এমন নিশ্চিত পাওয়া গেছে কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখে। এর ফলে তাকে মহানগর বিএনপির প্রথম সদস্য করা হবে এবং আহবায়ক পদ ছাড়তে হচ্ছেন। এদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপি দুই মাসের ক্ষমতা মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খান পুরো সিটি কর্পোরেশনকে চকচকে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মহানগর বিএনপি সুপার ফাইভ কমিটি গঠনে কেন্দ্রে তালিকা গেছে সভাপতি পদে আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, সহ-সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, ফতেহ মুহাম্মদ রেজা রিপন ও ১ম সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল কাউসার আশা।
এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমপি ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব দায়িত্বে রয়েছেন আবুল কাউসার আশা। মহানগর যুবদলের আহবায়ক পদে রয়েছেন মনিরুল ইসলাম সজল, পদবিহীন নেতা মাকছুদুল আলম খন্দকারকে মহানগর বিএনপিতে দেখা যাবে অন্যদিকে বর্তমান যুগ্ম আহবায়ক ফতেহ মুহাম্মদ রেজা রিপনও থাকছেন সুপার ফাইভ কমিটিতে।


































আপনার মতামত লিখুন :