এখনও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনেক সময় বাকী রয়ে গেছে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইউনিয়ন পরিষদের আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের জানান দিয়ে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতকায় বর্তমান প্রধান বিরোধীদলে থাকা জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মোমিন বেশ আলোচনা রয়েছেন। নির্বাচনের আগে থেকেই জনসাধারণের মাঝে বেশ জায়গা করে নিয়েছেন।
সূত্র বলছে, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার চিন্তা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তারই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে হাফেজ আব্দুল মোমিনের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
তিনি সাবেক ছাত্র নেতা ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি এবং মহানগরী জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীল হিসেবে নিয়োজিত আছেন। গত ৫ জুন এনায়েতনগর ইউনিয়নের এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার এই ঘোষণা দেন।
আর এই ঘোষণার পর থেকেই আব্দুল মোমিন বেশ জোড়েশোরেই নির্বাচনী মাঠে নিজেকে জানান দিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর যে কোনো সুযোগ সুবিধায় তিনি গিয়ে হাজির হচ্ছেন। সেই সাথে দলমত নির্বিশেষে সকলেই তাকে সাদরে গ্রহণ করছে। এলাকাবাসী যে কোনো প্রয়োজনে আব্দুল মোমিনের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন। সেই সাথে আব্দুল মোমিনও কোনো রকম বিরক্তি ছাড়াই নিজের সাধ্যমতো এলাকাবাসীর কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। সুযোগ পেলেই এলাকাবাসীর কল্যাণে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে হাজির হচ্ছেন।
আব্দুল মোমিন সেই ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত। তার জন্মস্থান মুসলিন নগর এলাকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয়। এরপর এলাকা থেকে ক্রমে ক্রমে ইউনিয়ন থানা কলেজ মহানগরে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এনায়েতনগর ইউনিয়নের মধ্য রয়েছে- অলিনগর, ফাজিলপুর, হরিহরপাড়া, শাসনগাঁও, মুসলিমনগর, নবীনগর, পূর্ব ধর্মগঞ্জ, দক্ষিন ধর্মগঞ্জ, আজমতপুর, মধ্য ধর্মগঞ্জ, আরাফাতনগর, পশ্চিম ধর্মগঞ্জ, এনায়েতনগর, দক্ষিন মাসদাইর, বাড়ৈভোগ, পশ্চিম মাসদাইর, উত্তর মাসদাইর, উত্তর মাসদাইর গাবতলী ও কেতাবনগর। সেই সাথে এলসকল এলাকার ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৮৩ হাজার ৫৩৯ জন এবং মোট জনসংখ্যা হচ্ছে- ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২১ জন।
আব্দুল মোমিন বলেন, আমি একটা রাজনৈতিক দলের সাথে আছি। সেই রাজনৈতিক দলের আদর্শ লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়েই আমার পথচলা। সেই রাজনৈতিক দলের সামগ্রিক চিন্তা চেতনা দেশ ও দেশের মানুষ সমাজব্যবস্থা নিয়ে আমিও কাজ করছি। মুসলিমনগর এলাকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আমার রাজনীতিতে পথচলা। আমি যে ইউনিয়ন থেকে নির্বাচন করার চিন্তা করছি ছাত্রজীবনে সেই ইউনিয়নেই আমি দায়িত্ব পালন করেছি। এখান থেকেই আমার বেড়ে উঠা।
২০১০ সালে আমি তোলারাম কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলাম। আর সে সময় থেকেই ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর নির্যাতন নীপিড়ন শুরু হয়। আর এই সময়টাতে থেকেই আমি দায়িত্ব পালন করে আসছি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি কখনও পিছপা হয়নি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকে একটি চোখ হারাতে হয়। তারপরও সংগঠন থেকে পিছু হটেনি। ইচ্ছা করলে আমি ব্যাকফুটে যেতে পারতাম। কিন্তু মানুষের কল্যাণের কথা এবং নিজের দায়বদ্ধতা থেকে ব্যাকফুটে চলে আসার সুযোগ ছিলো না। সবসময় সামনেই সাড়িতেই ছিলাম।
আমি যখন চোখ হারায় তখনও আমি ছাত্র ছিলাম। এই অবস্থাতেই আমি পড়ালেখা শেষ করি। এলএলবি সম্পন্ন করেছি। একই সাথে মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন সহ ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি। ছাত্রজীবন শেষে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত হই। সেই সাথে জাময়াতে ইসলামীতেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।
আগামী দিনেও সামনে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে চাই । সেই সাথে জনসাধারণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমার ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ করে আসছি। আমার ইচ্ছা আমার ইউনিয়নের বাসিন্দাদেরকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা। আমার ইইনিয়ন শ্রমিক অধুষ্যিত এলাকা। এই এলাকায় অনেক শ্রমিকদের বসবাস। এই শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমার একটা দায়িত্ব মনে করি। একই সাথে এলাকাবাসী নানা সমস্যায় জর্জরিত। এসকল সমস্যা নিয়ো কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।


































আপনার মতামত লিখুন :