News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

৪ বছর বয়সী মেয়ের জন্য বাঁচতে চায় ক্যান্সার আক্রান্ত পিয়াস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম ৪ বছর বয়সী মেয়ের জন্য বাঁচতে চায় ক্যান্সার আক্রান্ত পিয়াস

৪ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ের জন্য বাঁচতে চায় ক্যান্সার আক্রান্ত যুবক ফাহাদ হোসেন পিয়াস। আত্মীয় স্বজন বন্ধু প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় চিকিৎসা চললেও অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে পিয়াসের চিকিৎসা। ব্যয়বহুল চিকিৎসার চাপ সামলাতে গিয়ে পিয়াসের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিত্যদিনের অভাবের সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা চালানো তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইরের বাসিন্দা ফারুক হোসেন ও গৃহবধূ পান্না বেগম দম্পতির ২ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে ফাহাদ হোসেন পিয়াস সবার বড় সন্তান। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফারুকের একার আয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ হচ্ছিল না। যে কারণে এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি পিয়াসের। ৯ বছর আগে সংসারের হাল ধরতে পিয়াসকে বাবার সঙ্গে কাজের সন্ধানে নেমে পড়তে হয়। এরই মধ্যে পিয়াস বিয়ে করেন ফিজা বেগমকে। তাদের সংসারে ফাতেমা আক্তার ফারহা নামে ৪ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ফারুক হোসেন আগে ক্ষুদ্র ব্যবসা করলেও করোনা মহামারিতে পুঁজি হারিয়েছিলেন। পরে সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি করে পরিবারের ভরনপোষণ করে আসছিলেন। কিছুদিন আগে ঋন করে অটোরিকশা কিনেছেন।

২ বছর আগে পিয়াসের পায়ে তীব্র ব্যাথা দেখা যায়। এরপর পা ফুলে যায়। প্রথমে চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় করতে না পারলেও অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ৯ মাস আগে পিয়াসের ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর আত্মীয় স্বজন বন্ধু প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ৬টি কেমোথেরাপি দিলেও এখন অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় অন্যের জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে রক্ত দিতে ছুটে যেতেন পিয়াস। কিন্তু এখন নিজেই জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

পিয়াস জানায়, ২-৩ বছর আগে পিয়াসের পায়ে তীব্র ব্যাথা হতো। প্রথমে ব্যথানাশক ওষুধ খেলে ব্যথা কমতো। পরে ওষুধে কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে নেয়া হলেও ব্যথা কমতো না। পরে পা ফুলেও যায়৷। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেও চিকিৎসকরা রোগ ধরতে পারেনি। একসময় বা বাকা হয়ে যায়। ৯ মাস আগে বায়োপসি করার পরে ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ফোর্থ স্টেজে থাকলেও চিকিৎসকরা বলেছেন চিকিৎসা করালে ভাল হওয়া সম্ভব। সবাই বাঁচতে চায়। কিন্তু এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। 

পিয়াসের মা পান্না বেগম বলেন, আত্মীয় স্বজন বন্ধু প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ৬ মাস ধরে পিয়াসকে কেমোথেরাপি দিয়ে আসলেও এখন অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। আমার ছেলেটা অন্যের জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে রক্ত দিতে ছুটে যেতো। আজকে তাঁকেই রক্ত দিয়ে বাচিয়ে রাখতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় বিত্তবানসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে পিয়াসের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

পিয়াসের বাবা ফারুক হোসেন বলেন, আল্লাহ যাতে এই ক্যান্সার রোগ কাউকে না । চিকিৎসকরা বলেছেন ক্যান্সার হলে অনেক ৫ তলা বিল্ডিং মালিকও বাড়ি বিক্রি করে অন্যের কাছে হাত পাতে। আর আমাদেরতো কিছুই নেই। মানুষের সহযোগিতায় এতদিন চিকিৎসা করাইসি। ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করসি এমনকি একজনের গিফট দেয়া ফ্রিজও বিক্রি করতে হয়েছে।

সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় পিয়াস দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এই প্রত্যাশা সকলের।

পিয়াসের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।

০১৯৯৮০২৫৯৪০ বিকাশ

০১৯৩৫-৬২৯০৩১ নগদ