বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এমপিরা থাকতেন রাজধানীতে। কদাচিৎ তাদের নানা প্রয়োজনে আসতেন নারায়ণগঞ্জ। তাদের ছিল না কোন দাপ্তরিক অফিস। শামীম ওসমান রাইফেল ক্লাব ব্যবহার করলেও সেখানে সাধারণে প্রবেশ ছিল নিষেধ। ৫ আগস্টের পর নতুন এক বাংলাদেশে তাই পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে যেসব সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছেন তাদের একজন মাসুদুজ্জামান। এ শিল্পপতির একটি বক্তব্য এখন সর্বত্র আলোচিত সমালোচিত।
সম্প্রতি একটি পূজা মন্ডপের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মাসুদুজ্জামান। শহরের পালপাড়ায় ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ২ ঘণ্টা পর আসেন তিনি। এসেই নিজের ব্যস্ততা আর রাতে কিভাবে জ্যাম এড়িয়ে বাসায় ফিরবেন সে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
ওই বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়াতে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে পড়েন মাসুদুজ্জামান যিনি বিএনপিতে যোগ দিলেও আওয়ামী লীগে ছাত্র জনতা দমনের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মালিকানাধীন ব্যাংকের পরিচালক থেকে বতর্মানে চেয়ারম্যান হন। সোশ্যাল মিডিয়াতে স্পষ্ট হয়ে উঠে মাসুদুজ্জামানের ব্যস্ততার অজুহাতের খবর।
বিএনপি নেতারা বলছেন, কমিটি গঠনের পর থেকে ঠিকঠাকভাবেই চলছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কার্যক্রম। আহবায়ক ও সদস্য সচিবের মধ্যে দৃশ্যমান কোন ফাটল না থাকতে একসাথেই ছিলেন তাঁরা। যুগ্ম আহবায়কদের একটি বড় অংশ রয়েছে আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঙ্গে। কিন্তু তিন বছর আগে কমিটি গঠনের পর ১৫ জনের একটি দল যারা যুগ্ম আহবায়ক ও সদস্য ছিলেন তারা বিদ্রোহ করে পদত্যাগ করেন। সেই পদত্যাগপত্র আবার জমা দেন বিএনপির নির্দেশ না মেনে বহিস্কার হওয়া তৈমূর আলম খন্দকার। সেই দলটি এবার যোগ দিয়েছেন শিল্পপতি মাসুদুজ্জামানের সঙ্গে। এ গ্রুপকে সাথে নিয়ে পথ চলে ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন মাসুদুজ্জামান।
ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি মেড ইন নারায়ণগঞ্জ না, আপনি মেড ইন আওয়ামী লীগ। আপনি মেড ইন সেলিম ওসমান, কারণ আপনি সেলিম ওসমানের দোসর ছিলেন। আপনি মেড ইন আনিসুল হক। আপনার পিতা আওয়ামী লীগ ছিল এটা নারায়ণগঞ্জের সবাই জানে। আসলে উনি তো বিএনপি'রই কেউ না। তিনি এখনো পর্যন্ত বিএনপির সদস্য হতে পারে নাই। আপনি বিগত ১৫টি বছর কোথায় ছিলেন, আপনাকে তো রাজপথে দেখা যায়নি। এখন আপনি বসন্তের কোকিল হয়ে মধু আহরণ করতে এসেছেন। মধু আহরণ করা শেষ হয়ে গেলে আপনিও চলে যাবেন।’
নগরবাসী বলছেন, শিল্পপতিরা নারায়ণগঞ্জ থেকে বেড়ে উঠে একটা সময় এসে এ জনপদকে টাকা কামানোর স্থান হিসেবে বেছে নেয় আর রাজধানী ঢাকাকে বসবাস করেন। ফলে এ নারায়ণগঞ্জের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধের অভাব ফুটে উঠে। যে কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ নগরবাসীকে।
ভোটারদের মধ্যে এবার বার বার নাড়া দিচ্ছে এক স্বপ্ন। এ শহরের মানুষ হবে জনপ্রতিনিধি। সংসদে গিয়ে জানাবে নিজ এলাকার দুর্দশার কথা। সঙ্কট দুর্ভোগে সাড়া দিতে সময় ক্ষেপন করবে না, রাজধানী হতে ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে শহরে আসতে অজুহাত দেখাবে না এমন ব্যক্তিকেই বেছে নিতে হবে। সে হিসেবে আলোচনায় এসেছেন আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল। জন্ম থেকে শুরু করে ধ্যান জ্ঞান এ শহরের জনপদকে ঘিরেই। বসবাস করেন শহরের মিশনপাড়া এলাকা যেটা শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত। বিএনপি অধ্যুষিত এ এলাকাতেই বেড়ে উঠা বাবুলের। আশির দশকে যখন গার্মেন্ট ব্যবসার সবেমাত্র গোড়াপত্তন তখনই তিনি শহরের খানপুর বরফকল এলাকাতে প্রাইম গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠা করে বেকারদের কর্মসংস্থান শুরু করেন। এক সময়ে এ গার্মেন্টের কারণে অনেকেই যখন বুঝে উঠতে পারতেন না তখনই এ ব্যবসাকে তিনি দ্রুত প্রসার ঘটান। উপার্যন করেন অর্থ। কিন্তু শো অফ বাদ দিয়ে তিলে তিলে প্রতিষ্ঠানকে বড় করতে থাকেন। অনেক ব্যবসায়ী যখন টাকা কামিয়ে ঢাকায় গিয়ে ফ্ল্যাট, প্লটের মালিক হয়ে নারায়ণগঞ্জে শুধুমাত্র কারখানা স্থাপন করে টাকা কামাতে ব্যস্ত তখন বাবুলের সবকিছু এ নারায়ণগঞ্জকে ঘিরেই। আপন ভাইদেরও এ গার্মেন্ট সেক্টরে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের এক সংগ্রামের পর এবার প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত এ জনপদকে এবার দেওয়ার সময় এসেছে বাবুলের। সে কারণেই তিনি নারায়ণগঞ্জের সন্তান হিসেবে এ অবহেলিত শহর ও বন্দরের উন্নয়নে নিজেকে মনোনিবেশ করতে চায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে বড় পরিসরে। তিনি নারায়ণগঞ্জেই কামাতে চান, নারায়ণগঞ্জেই ঘুমাতে চান, এ জনপদকে আধুনিক একটি উন্নত শহরে পরিণত করার প্রয়াস চালাচ্ছেন।
ফ্ল্যাশব্যাক : নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া মৃত আব্দুর রশিদ আহমেদের ছেলে আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল। ১৯৭৭ সালে জাগদল সক্রিয় সদস্য হয়ে খাল খনন কর্মসূচী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি গঠনকালে দলের সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭৮-১৯৮২ সালে জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সাইদুর রহমান বাচ্চার নেতৃত্বে সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ১৯৮২-১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলন সহ নানান আন্দোলন সংগ্রামে দেখা গেছে। ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সংযুক্ত হয়ে অব্যাহত রয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির সদস্য ও দাতা হবার কারণে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ ও তাদের পেটোয়া বাহিনী দ্বারা জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতে জেলা ও মহানগর বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তার কারণে বাবুলের বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আওয়ামীলীগের ফ্যাসিষ্ট গুন্ডাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা ও গুলি বর্ষণ করা হয়।
মহামারী করোনা সময়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি ও প্রায় দশ হাজার মানুষের মাঝে ওষুধ বিতরণ করেছেন আবু জাফর বাবুল। এছাড়াও পুলিশের হামলায় পঙ্গুত্ববরণকারীকে চিকিৎসা ও পরিবারকে পুনর্বাসন, জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনের আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা প্রদান, প্রতি ঈদে শাড়ি লুঙ্গি বিতরণ, মিশনপাড়া পঞ্চায়েত থেকে দুস্থ পরিবারের সন্তানদের নিজস্ব তহবিলে পড়াশুনা খরচ বহণ ও নিজস্ব ক্লিনিকে প্রতি মাসে দশ জন রোগীতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া সহ বিগত ভয়াবহ বন্যকালীন সময়ে প্রাইম গ্রুপ থেকে সহয়তা করা হয়েছে।








































আপনার মতামত লিখুন :