নগরীর চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত প্রায় ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক। এই সড়ককে ঘিরে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও দখলদারিত্ব। কাগজে কলমে এই সড়কের দুইপাশের জায়গার মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগ হলেও জমিগুলো নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে লিজ দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। পরবর্তীতে সেই ধারা অব্যাহত রেখেছিলে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মহানগর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান চন্দন শীল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্টদের পতনের পর এখন সেই ভোগ দখলের রাজত্ব কায়েম রেখেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আত্মীয়স্বজনেরা।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের চাষাঢ় ডাকবাংলা থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে যে জমিগুলো ছিল এসব জমির কোনো কোনো স্থানে আশে পাশের বাড়ির মালিকেরা পয়েস্তি হিসেবে নিজেদের বাড়ির সামনের কিছুটা জমি ভোগ দখল করতেন।
কিন্তুআওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে যখন প্রথম বারের মত জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন তখন থেকেই শুরু হয় এই সড়কটিতে লুটপাটের রাজত্ব। মূলত জমির মালিক সড়ক ও জনপথ হলেও সে সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক এই সড়কের মালিক জেলা পরিষদ দাবি করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে বেনামে লিজ দিতে শুরু করেন। সেই অবৈধ সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে দোকানপাট স্থাপন করে ভাড়া তুলতে শুরু করে। পরবর্তীতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে আসলেও তিনিও একই কাজ করেন। নিজের ভাতিজা ও আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে জমিগুলো নামে বেনামে লিজ প্রদান করে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। এরপর চেয়ারম্যান হয়ে আসেন ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি শামীম ওসমান বন্ধু চন্দন শীল। তিনিও চেয়ারম্যান হয়ে এসে আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এসব জমি ভোগ দখলের সুযোগ করে দেন। সে সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চন্দন শীলের সকল অপকর্মের অন্যতম সহযোগি হয়ে ছিলেন জেলা পরিষদের উপ সহকারী প্রকৌশলী রক্ষিত কুমার পালিত। যার কিনা ঘুষ বাণিজ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভাইরাল হয়ে ছিলো।
ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে গেলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চন্দন শীল সহ ওই সকল দখলবাজ আওয়ামী লীগ নেতারাও নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
১৭ বছরে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা পতনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হলেও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে শুধু মাত্র হাত এবং নেতার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু বজায় রয়েছে দখলদারিত্ব।
বর্তমান বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নামে এসব জায়গা ভোগ দখল করা হচ্ছে। জেলা ছাত্রদলের সাবেক একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবদলের একটি শীর্ষ নেতার ভাগিনা, মহিলা দলের শীর্ষ নেত্রীর ভাতিজা সহ বিভিন্ন পরিচয়ে এসব জমি দখল করে খাচ্ছে। আর এই সব জমির ও দোকানপাটের দখল বজায় রাখতে প্রতিনিয়তই নানা ঘটনার জন্ম নিচ্ছে।
জেলা পরিষদ থেকে লিজ দেওয়া ওই জমির প্রকৃত মালিক কারা জানতে চেয়ে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ জেলা অফিসের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহছান উল্লাহ মজুমদার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাষাঢ়া ডাকবাংলা থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত সড়কের দুইপাশের জমিতে যেসব দোকানপাট উঠেছে সেগুলো সড়ক ও জনপথের জমি। তবে এটি ঢাকা বিভাগের অধীনে। তাই এ বিষয়ে ওনারাই ভাল বলতে পারবেন।
এ ব্যাপারে জানতে সড়ক ও জনপথের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী(ঢাকা) মমিনুল ইসলাম জানান, ওই জায়গার মালিক সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। সেটা জেলা পরিষদ কোনো অবস্থাতেই লিজ দিতে পারেনা। যদি তারা এমন লিজ দিয়ে থাকে তাহলে সেটি অবৈধ। আর আমাদের সড়ক ও জনপথের নীতি মালায় রয়েছে আমাদের জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন পেট্টোল পাম্প বা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্য লিজ দেওয়া যাবে। অন্য কোনে ক্ষেত্রে লিজ দেওয়া যাবেনা। আমাদের সারা বাংলাদেশের জন্য আলাদা মেজিস্ট্রেট রয়েছে আমরা এরপর নারায়ণগঞ্জে অভিযানে আসলে এসকল স্থাপনা আমরা ভেঙে দিবো।
এ ব্যাপারে জানতে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







































আপনার মতামত লিখুন :