News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

৫ এমপির বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জবাসী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম ৫ এমপির বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জবাসী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক উত্তাপ অনেকটাই কমে এসেছে। নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার-ব্যানার সরেছে, থেমে গেছে মিছিল ও স্লোগানের শব্দ। এখন শুরু হয়েছে আরেক বাস্তবতার সময় নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রতিযোগিতা। শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসন থেকেই নতুন প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে গেছেন। ফলে তাদের সংসদে প্রথম বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলার মানুষ।

গত ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় অধিবেশন বসছে ১৫ মার্চ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের কোনো সংসদ সদস্য অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। এতে জেলার নাগরিকদের মধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে সংসদের মেঝেতে দাঁড়িয়ে তারা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কী বলবেন, তা জানার জন্য অপেক্ষা করছেন অনেকেই।

নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত। যানজট, জলাবদ্ধতা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, পরিবেশ দূষণ, নদী দখল, চাঁদাবাজি এবং কর্মসংস্থানের সংকট এসব সমস্যা জেলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের সময় এসব ইস্যু সামনে রেখে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা সামনে আসেনি।

তবে নির্বাচিত এমপিরা নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। তারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং রাজনৈতিকভাবে মাঠ গোছানোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে আবার এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিন ঘুরে দেখছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচিত পাঁচ এমপির মধ্যে চারজনই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে গেছেন। ফলে সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকা, প্রশাসনিক জটিলতা সামাল দেওয়া এবং একই সঙ্গে স্থানীয় উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সব মিলিয়ে তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্বের উদ্যম যেমন ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করে, তেমনি অভিজ্ঞতার ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠাও গুরুত্বপূর্ণ।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সংসদ সদস্য হিসেবে এটি তার প্রথম মেয়াদ। দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে রূপগঞ্জে অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়েছে। সড়ক সম্প্রসারণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এলাকাবাসীর অন্যতম প্রধান দাবি। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে সড়ক উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা শক্তিশালী করা, খাল পুনঃখনন এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নকে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আধুনিক উদ্যোগ নিলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি আরও গতিশীল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জয়ী আজহারুল ইসলাম মান্নান শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় পরিবেশ দূষণ, নদী ও খাল দখল, বায়ুদূষণ এবং শিল্পকারখানার নিরাপত্তা বড় ইস্যু হয়ে আছে। শ্রমিক কল্যাণ ও টেকসই শিল্পায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তার প্রতি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন তুলনামূলক তরুণ এমপির নির্বাচনে জয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট কমানো, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান এ আসনের বাসিন্দারা।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত আবুল কালাম বন্দর ও নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতির এই এলাকায় সড়ক উন্নয়ন, নদী রক্ষা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান স্থানীয়রা। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। নদী দূষণ, অবৈধ দখল, ভাঙাচোরা সড়ক এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন এসব সমস্যার সমাধানে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সংসদে জেলার প্রতিনিধিত্বকারী পাঁচ এমপি যদি একসঙ্গে কাজ করতে পারেন, তাহলে স্থায়ী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো এখন বাস্তবতার পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে। মাঠ গোছানোর প্রাথমিক সময় পার হওয়ার পর উন্নয়ন কার্যক্রম কতটা গতি পায় সেটিই এখন দেখার বিষয়। নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা স্পষ্ট রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, প্রয়োজন দৃশ্যমান উন্নয়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ। এখন নজর পাঁচ এমপির দিকে সংসদে তাদের বক্তব্য এবং কার্যক্রম কতটা দ্রুত শিল্পনগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পথ দেখাতে পারে।