জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ছিলেন বিএনপি নারায়ণগঞ্জ জেলা আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও মহানগরের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
২২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ পান মহানগরের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন।
এদিকে তিন সপ্তাহ ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ পেলেন জেলা বিএনপি আহবায়ক মামুন মাহমুদ। ১৬ মার্চ তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির দুই আহবায়ক ভদ্র দক্ষ নির্যাতিত হামলা মামলা গ্রেপ্তার কারাগারে জর্জরিত ছিলেন।
এদের মধ্যে ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি মেয়র প্রার্থী হয়ে সারাদেশে আলোচিত হয়েছিলেন মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়ে ছিটকে পড়েন জেলা বিএনপি আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। দুই আহবায়ক দলের নেতা-কর্মীদের কাছে ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত রয়েছেন। কিন্তু দুই আহবায়ককে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন দেয়া হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও) আসন নির্বাচন করতে ইচ্ছুক প্রকাশ করেছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। কিন্তু দল মামুন মাহমুদকে কোনো আসনে মনোনীত না দিলেও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে ছিলেন। ওই সময়ে মনোনয়ন বঞ্চিত সাত জন একত্রে স্বাক্ষর করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেন। পরদিনই তিনি ওমরাহ করতে দেশত্যাগ করেন এবং সোনারগাঁয়ে বড় সমাবেশ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্ত ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দল একজনকে মনোনীত করায় সমাবেশ থেকে পিছু হটেন মামুন মাহমুদ।
আজহারুল ইসলাম মান্নানের পরিবর্তনের দাবিতে জেলা বিএনপি আহবায়ক মামুন মাহমুদ সহ মনোনয়ন বঞ্চিতদের আবেদনে সমালোচনা পড়ে জেলা বিএনপি।
অপরদিকে গত ১৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। দলীয় কার্যালয়ে ডেকে আসনটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য বলা হয়েছে বলে জানান এ বিএনপি নেতা। একই সাথে তিনি ২০ ডিসেম্বর দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বলেও জানান।
সাখাওয়াত হোসেন খান ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাতখুনের ঘটনার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী হয়ে আলোচনায় আসেন। এ আইনজীবী ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে সারাদেশে পরিচিত পান। এ পরিচিতি তাকে ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পেতে সহযোগিতা করে। যদিও ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করা সাখাওয়াত। পরে ২০১৮ সালেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির এ নেতা। কিন্তু সেবার তিনি মনোনয়ন পাননি। দল নির্বাচনী জোটের শরিক দলকে আসনটি ছেড়ে দেয়। ওই নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এসএম আকরাম ধানের শীষ নিয়ে ভোট করেন। যদিও বিতর্কিত ওই নির্বাচনে আসনটি বাগিয়ে নেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান। এবারও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন।



































আপনার মতামত লিখুন :