নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদ। রোববার এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৪২ টি জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। সেই প্রজ্ঞাপনেই এবার প্রশাসক হলেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থাকার স্বীকৃতি হিসেবেই এ নিয়োগকে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে উঠে আসে একাধিক ব্যক্তির নাম। তবে চমকপ্রদ ভাবে সাখাওয়াত হোসেন খান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদ লাভ করেন। এরপর জেলা পরিষদের প্রশাসক কে হবেন তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা কল্পনা। আলোচনায় ছিলো দুজনের নাম। তারা হলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান। প্রবীন ও সিনিয়র রাজনীতিবিদ হিসেবে তাদের নাম শোনা যাচ্ছিলো সর্বত্র। সবশেষ মামুন মাহমুদই করেছেন বাজিমাত। চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
নারায়োণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান আইনজীবী হিসেবে আলোচনায় আসেন বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সাত খুন মামলা এর বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। সারা দেশে আলোচিত এ মামলায় আদালতে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০১৬ এ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। শেষ পর্যন্ত আইভীর কাছে পরাজিত হলেও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে আলোচনায় ছিলেন সাখাওয়াত।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদ আলোচনায় আসেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদে আসীন হবার পর। তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক দক্ষতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে আওয়ামী শাসন আমলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেসময় তার সভাপতি ছিলেন কাজি মনিরুজ্জামান। দীর্ঘদিন সেই কমিটি পরিচালিত হবার পর তৈমূর আলম খন্দকার জেলা বিএনপির আহবায়ক হলে সেখানেও সদস্য সচিব হন মামুন মাহমুদ। মাঝে গিয়াস উদ্দিন ও খোকনের নেতৃত্বে কমিটি গঠিত হলে ছন্দপতন হয় মামুনের। তবে সেই কমিটি বিলুপ্ত হবার পর ফের দায়িত্বলাভ করেন মামুন মাহমুদ।
সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৪ এবং নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনে এমপি পদপ্রার্থী ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সেখান থেকে সরে দাঁড়ান। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর অংশ হিসেবেই এবার পুরস্কার পেলেন মামুন মাহমুদ।
দলীয় নেতারা জানান, জেলা বিএনপির নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনকালে অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখেও তিনি নিজের অবস্থান ধরে রাখেন। বার বার সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এসেছেন। সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। স্থানীয়ভাবে শক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হননি। বরং প্রকাশ্যে দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। দলকে জয়ী করতে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলার কারণেই মামুন মাহমুদ ও সাখাওয়াত হোসেন খান এখন মূল্যায়িত হচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বার্তাও বহন করছে। তাঁদের মতে, দলের প্রতি অনুগত থাকলে দল যে মূল্যায়ন করে, তার একটি উদাহরণ হতে পারে এই সিদ্ধান্ত। তবে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেলে নগরবাসীর প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবেন মামুন মাহমুদ তা এখন আলোচনার বিষয়। নেতাকর্মীরা বলছেন, সাংগঠনিক দক্ষতার মত প্রশাসনিক কাজেও দক্ষতার পরিচয় দিবেন তিনি।



































আপনার মতামত লিখুন :