ফতুল্লা থানার সামনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে থানায় কোনো হয়রানির শিকার হলে, ঘুষ দাবি করা হলে কিংবা প্রতারণার ঘটনা ঘটলে সরাসরি এমপিকে জানানোর আহ্বান। সাইনবোর্ডে এমপির ব্যক্তিগত ফোন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাতে ফতুল্লা থানার সামনে দুটি সাইনবোর্ড টানানো হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ফতুল্লা এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সকাল থেকে থানার সামনে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ফেস্টুন দেখে নানান আলোচনা করেন। সেই সাথে সেবা নিতে আসা অনেক সেবাপ্রার্থী ফেস্টুনের ছবি তুলে নিয়ে যান।
সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, থানায় কোনো ধরনের হয়রানি, ঘুষ দাবি বা প্রতারণার শিকার হলে ভুক্তভোগীরা যেন সরাসরি তাদের সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন। এ জন্য সেখানে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে। যেখানে ফোন, মেসেজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হোয়্যাটসএপে তথ্য জানাতে পারবেন সংসদ সদস্যকে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, থানায় সেবা নিতে গিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষ নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ করে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে এমপির পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়াকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন। একজন এমপির দ্বারা এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম। সেই সাথে তরুন এমপি হবার কারনেই এমন উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফতুল্লা থানা এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা সম্মিলিত ভাবে উদ্যোগ নিয়ে এবং এমপি আল আমিনের অনুমতি নিয়ে এই ফেস্টুন লাগানো হয়। এনসিপির নেতাকর্মীরা বলেন, থানায় দালালদের দ্বারা হয়রানির শিকার হবার ঘটনা দীর্ঘদিনের। যেই বিষয়টি সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রায়শই এনসিপির নেতাকর্মীদের কাছে অভিযোগ দিতেন এবং স্থানীয় এমপির সহযোগীতা চাইতেন। তারই অংশ হিসেবে এবার এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক রাইসুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি এই অবস্থান ও সাইনবোর্ডের কারনে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি এমপিকে অবগত করতে পারবেন। সেই বিষয়টি এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানাবেন এবং সমাধান না পেলে প্রয়োজনে সংসদে উত্থাপন করবেন। তবে আমাদের প্রত্যাশা, এই অবস্থানের পর দুর্নীতবাজ ও দালাল চক্র আগের মত মানুষকে হয়রানি করা থেকে সরে আসবে।
এদিকে সাইনবোর্ড টানানোর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। প্রশংসা করছেন অধিকাংশ সেবা গ্রহীতারা। নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। সেই সাথে এমপির এমন উদ্যোগ যেন ধারাবাহিক ভাবে চলমান থাকে এবং অভিযোগ আমলে নিয়ে যেন এমপি কাজ করে সেই প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন।



































আপনার মতামত লিখুন :