আর মাত্র কয়েকদিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শেষ হচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোট গ্রহণের মাধ্যমে নতুন এমপি নির্বাচিত করতে যাচ্ছে অপেক্ষামান ভোটাররা। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী মধ্যে মনোমালিন্য এখনো কাটেনি। যার ফলে জয়-পরাজয়ে এখনো হিসাব নিকেশ করছেন দুই প্রার্থী অনুসারীদের মধ্যে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজয়ের লক্ষ্যে অন্যান্য প্রার্থীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়ে ছিলেন সাবেক এমপি, ত্যাগী-নির্যাতিত ও শিল্পপতিরা। এতে করে মহানগর বিএনপি একাধিক বিভাজনে থাকলেও গত বছর ১০ নভেম্বর প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে ঘিরে আসেন গ্রুপিংয়ের নেতারা। যার কারণে নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে জয়ী করার মরিয়া হয়ে মাঠে নামনে ১৬ বছর যাবৎ নির্যাতিত নেতাকর্মীরা।
বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ মনোনয়ন বঞ্চিতদের দ্বারে গিয়ে সাড়া পায়নি তিনজনের। এরা হলেন, সাবেক এমপি আবুল কালাম ও মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে শহর-বন্দর আসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ঘোষণা দেন মাসুদ। এতে করে গুছিয়ে নেয়া মহানগর বিএনপির পদধারী ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়।
এরপরই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়নে আলোচনা সৃষ্টি করেন সাবেক এমপি আবুল কালাম ও মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর দলীয় মনোনীত পেয়ে অঙ্গীকারনামা নিয়ে নিশ্চিত হন আবুল কালাম। একই সাথে ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিয়ে ২৯ ডিসেম্বর দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হন।
জানা গেছে, দলের মনোনীত হয়ে গত বছর ১১ নভেম্বর আবুল কালামের বাসায় গিয়ে ছিলেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তখন আবুল কালামের সাথে সাক্ষাৎ না হলেও তার মেয়ে সামছুর নূর বাধঁনের সাথে আলাপচারিতা করেন তিনি। এরপরে একাধিক যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। একই ভাবে সাখাওয়াত হোসেন খানের সাক্ষাতে চূড়ান্ত ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহবান জানায় মাসুদকে। যার ফলে দুইজনের মনোমালিন্য ভাঙ্গতে ব্যর্থ হয়ে নিজে গতিতে নির্বাচনে মাঠে সক্রিয় হয়ে পড়েন মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
একইভাবে ২৪ ডিসেম্বর পর মাসুদুজ্জামান মাসুদের সাথে যোগাযোগ করে পাশে রাখতে পারেনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম। একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে দুইজনের সাক্ষাৎ এর সময় নির্ধারণ করা হলেও দলের মধ্যে এতে বিভাজন করে রেখেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। এমনকি ৩ ফেব্রুয়ারি ১১নং ওয়ার্ডে আবুল কালামের গণসংযোগে মাসুদুজ্জামান মাসুদ পাশে রাখা নিয়ে ওই নেতার কূটকৌশলে বাধা পড়ে যায়। একই দিনে ১২নং ওয়ার্ডে গণসংযোগে আবুল কালামে সাথে দেখা যায়নি স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। তিনি জানিয়েছে, ধানের শীষে প্রার্থী আসবেন শুনেছি-কিন্তু কেউ আমাকে জানায়নি। আবুল কালামের ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রতিনিয়ত আমি ও আমার লোকজন কাজ করছে।
মাসুদুজ্জামান মাসুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিতি মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, ফারুক হোসেন, সদস্য মনোয়ার হোসেন শোখনকে মিলে আবুল কালামের ভোট প্রার্থনায়। তারা ইতোমধ্যে আবুল কালাম ও তার ছেলে আবুল কাউসার আশা পাশে দেখা গেছে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালামের পাশে শীর্ষ নেতা ও মনোনয়ন বঞ্চিতদের দেখা না যাওয়া কারিগর পদধারী কয়েক নেতা নাম উঠে এসেছে। তারাই আবুল কালামকে দুর্বল করার জন্য পায়তারা করেছে।


































আপনার মতামত লিখুন :