News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

সোনারগাঁয়ে ফুটবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন গিয়াস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম সোনারগাঁয়ে ফুটবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন গিয়াস

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে সম্ভাবনায় রয়েছেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। দিন দিন তার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। সেই সাথে তিনি তার জনপ্রিয়তারও প্রমাণ দিচ্ছেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সহ একাধিক প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও ভোটের নানা হিসেবে নিকেসে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে দিয়েছে। সবশেষ ভোটের হিসেবে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। হয়তো ভোটের ফলাফলে তারই জয় হতে পারে।

সূত্র বলছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে শুরু থেকেই বেশ আলোচনায় ছিলেন আজহারুল ইসলাম মান্নান ও অধ্যাপক রেজাউল করিম। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন এলাকা তাদেরকে ঘিরেই নির্বাচনী মাঠ জমজমাট ছিলো। আসন বিন্যাসের মধ্য দিয়ে তাদের সাথে যোগ দেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। সেই সাথে তিনি মাঠে নেমেই সারা জাগিয়ে তুলেন।

এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। কিন্তু মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের অনুসারীরা তাকে মেনে নেয়নি। অনুসারীরা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকেই প্রার্থী হিসেবে চান এবং অনুসারীদের অনুরোধে গিয়াসউদ্দিন স্বতন্ত্র প্রতীকেই ভোটের মাঠে নামেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও ভোটের মাঠে থেকে যান তিনি। তবে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনেই এগিয়ে গেছেন।

এদিকে এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসাইন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই তিন প্রার্থীরই বাড়ি সোনারগাঁ উপজেলায়। তাদের বিপরীতে গিয়াস উদ্দিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি সিদ্ধিরগঞ্জে। যদিও সিদ্ধিরগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলক ছোট অংশ, তবে এখানকার ভোটার সংখ্যা দুই লাখের বেশি। আর এই বিশাল ভোটব্যাংক গিয়াস উদ্দিনকে অন্যদের চেয়ে আলাদা জায়গায় নিয়ে গেছে।

শুরুর দিকে মান্নান এই আসনে এগিয়ে থাকলে তার বিভিন্ন বক্তব্যে এবং অনুসারীদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে তার জনপ্রিয়তা কমে গেছে। বিশেষ করে তার ছেলে খায়রুল ইসলাম সজীব ভোটের মাঠ নষ্ট করে ফেলেছেন। পাশাপাশি রেজাউল করিমও বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যাওয়ায় তাকেও ভোটাররা তেমন একটা গ্রহণ করছেন না।

অন্যদিকে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন। ফলে শুধু সিদ্ধিরগঞ্জ নয়, সোনারগাঁয়ও তিনি নিজের জন্য গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, সোনারগাঁয়ে বাকি প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে তাদের সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত উপস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল। এই দ্বৈত বাস্তবতা ভোটের সমীকরণে গিয়াসকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা।

সেই সাথে ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। শুরু থেকেই তার উপস্থিতি এই আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুরুতে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ দুই আসনেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এক আসনে দলীয় প্রার্থী এবং অন্য আসনে জোট প্রার্থী চূড়ান্ত হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন। এতে কৌশল নির্ধারণ ও মাঠ পরিচালনায় পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকেও গিয়াস উদ্দিন অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা তো আছেই, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কঠিন বাস্তবতায় জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ওয়ার্ড ও ইউনিটভিত্তিক সংগঠন পুনর্গঠন, আন্দোলনে নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখা সবকিছুই ছিল দীর্ঘ এক রাজনৈতিক প্রস্তুতির অংশ।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নিয়মিত মাঠে রয়েছেন তিনি। ছোট সভা, ঘরোয়া বৈঠক, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করছেন। নেতাকর্মীদের চাপ, তৃণমূলের আবেগ এবং নিজের রাজনৈতিক সামর্থ্যের ওপর আত্মবিশ্বাস সব মিলিয়েই এই কঠিন লড়াইয়ে তিনি টিকে আছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠন, পরিচিত মুখ এবং মাঠের বাস্তব দখল এই তিনটি জায়গাতেই এখন পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তাকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। তার নিজের ভাষায়, খেলার ফয়সালা হয় ভোটের দিন, প্রতীক দিয়ে নয়।

সব মিলিয়ে সহানুভূতিশীল ভোট, শক্ত সংগঠন এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিকের কৌশল এই তিন শক্তির ওপর ভর করেই মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে সম্ভাবনাময় সমীকরণ তৈরি করেছেন। যা তাকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে।

সূত্র বলছে, ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি ছেড়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেয় গিয়াস উদ্দিন। ১৯৭৩ সালে গিয়াসউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হয়। ৭৫ পরবর্তীতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর এলাকাবাসীর চাঁদার টাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ৮০’র দশকে আওয়ামী লীগ থেকে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন গিয়াসউদ্দিন। পরে সদর উপজেলা (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) নির্বাচনে দলের প্রভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত গিয়াসউদ্দিন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগরে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানের বিপক্ষে অবস্থান নেয় গিয়াসউদ্দিন। পরে শামীম ওসমান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয় গিয়াসউদ্দিনের। ২০০১ সালের ১৪ আগস্ট গিয়াসউদ্দিন কৃষক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেয়। পরে এফবিসিআইসির নেতা শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীর সুবাধে প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন নাটকীয়ভাবে ৬ সেপ্টম্বর গিয়াস উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান। এবং  ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাবেক এমপি শামীম ওসমানকে পরাজিত করে গিয়াস উদ্দিন এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে রাতারাতি আলোচনায় ওঠে এসেছিলেন।