নারায়ণগঞ্জ ৪ আসন তথা ফতুল্লা ও সদর থানার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন করে সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। এই আসনে গত ১১ বছর ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে আসীন ছিলেন বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান। যদিও আগে থেকেই ফতুল্লা অঞ্চলটি বিএনপি অধ্যুষিত হিসেবেই পরিচয় পেয়ে আসছিলো। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেখানে বাজিমাত করেছে এনসিপি। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে একটি আসনেই জয় পেয়েছে ১১ দলীয় জোট।
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে একটি আসনে বিএনপি জোট তাদের দলীয় প্রার্থীর বাইরে জোটের প্রার্থী দিয়েছেন। আর আসনটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ৪। এখানে বিএনপি জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নামেন। তবে দলের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ছিলেন না বিএনপির নেতাকর্মীরা। এই আসনে বিএনপির সাবেক দুজন এমপি নির্বাচনে নামেন। তারা হলেন গিয়াস উদ্দিন এবং মোহাম্মদ আলী। একই সাথে নির্বাচনে লড়েন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য শাহ আলম। তাদের সাথে নির্বাচনে কাজ করায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অন্যদিকে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে ছিলেন এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন। এই আসনে জামায়াত থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো দলটির মহানগরের আমীর ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আবদুল জব্বারকে। পরবর্তীতে এনসিপিকে সমর্থন দিয়ে জামায়াত প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও জামায়াতের অনেকেই নাখোশ ছিলেন। মাঠ গুছিয়েছেন অনেক ধীর গতিতে। প্রচার প্রচারণায় ছিলেন মনির কাসেমী, শাহ আলম, মোহাম্মদ আলী, গিয়াস উদ্দিনের থেকে পিছিয়ে। মাঠের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন তৃতীয় হতে পারেন এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন। কিন্তু বিএনপির মূল প্রার্থী ও বিদ্রোহীদের ভোট ভাগ হবার সুযোগে জয় পেয়েছেন আল আমিন।
এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তরুণদের একচেটিয়া ভোট পেয়েছেন তারা। সেই সাথে নারীদের ভোট পেয়েছেন ব্যাপক। পুরো আসনে সবকয়টি নারী কেন্দ্রে এনসিপির প্রার্থী জয় পেয়েছে। জেন জি ও নারীদের ভোটে জয় পেয়েছেন আল আমিন। পাশাপাশি জামায়াতের রিজার্ভ ভোট ব্যাপক সহযোগিতা করেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের গণসংযোগের পাশাপাশি জামায়াতের নেতাকর্মীদের ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন অনেক বেশি কাজে লেগেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লষক কবি আরিফ বুলবুল বলেন, ‘প্রথমত এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক ছিলো না। বিএনপি জোটের প্রার্থী নমিনেশন পাওয়ার পরপরেই এলাকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, বিতর্কিতদের পাশে বসিয়ে নিজের ইমেজ নষ্ট করেছেন। দলে ফিরিয়ে এনেছেন আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া মনিরুল আলম সেন্টুকে। এসব কারনে তার ভোট হারিয়েছেন। পাশাপাশি শাহ আলম, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ আলীর সাথে ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় মাত্র জয় পেয়েছেন আল আমিন।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে জামায়াত এনসিপি জোটের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট। অন্যদিকে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৭৯ ভোট, বিআরপি থেকে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ১১ হাজার ৩২৮ ভোট।


































আপনার মতামত লিখুন :